ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশে ৫ জনের মৃত্যু, বিপর্যস্ত জনজীবন, প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড উপকূলবর্তী এলাকা, ওড়িশাতেও দুর্যোগের ছায়া

আপডেট প্রতিনিধি, নয়া দিল্লী, ২৯ অক্টোবর || শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা। প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দুই রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্ধ্রপ্রদেশে এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। কোথাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কোথাও গাছ ভেঙে পড়ার কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, অনাকাপল্লি, কাকীনাডা, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলা থেকে মৃত্যুর খবর এসেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকীনাডার নিকটবর্তী ইয়ানাম অঞ্চলের কাছে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছয়। প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়।
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র বা ‘চোখ’ স্থলভাগে প্রবেশ করে। এরপর ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে শুরু করে অর্ণব। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমতে শুরু করলেও অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ঝড়বৃষ্টি অব্যাহত থাকে।
দুর্যোগের আশঙ্কায় দুই রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঝড়ের দাপটে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। বহু এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হওয়ার খবরও সামনে এসেছে।
পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বেশ কয়েকটি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল-সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রেল পরিষেবাতেও বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে আনাকাপল্লি, বিশাখাপত্তনম, কাকীনাডা ও কোনাসীমা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
অন্যদিকে, ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও দুর্যোগের প্রভাব স্পষ্ট। গোপালপুর ও পুরী-সহ একাধিক অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র স্থলভাগে প্রবেশের পর শক্তি হারাতে শুরু করলেও দুই রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা, পরিবহণ ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক করতে পরিস্থিতির উন্নতির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*