বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ২৯ অক্টোবর || দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত জোলাইবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বামছড়া এলাকায় বানরের উপদ্রবে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল এই এলাকার অধিকাংশ কৃষক নিজেদের উৎপাদিত ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ধান চাষের মরশুমে বানরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
রাজ্য সরকার কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বামছড়া এলাকার কৃষকদের সমস্যার যেন শেষ নেই। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ধানগাছে শিষ বের হওয়ার পর থেকে ধান পাকা পর্যন্ত বানরের উপদ্রব ক্রমশ বাড়তে থাকে। ফলে কৃষকরা বাড়তি পরিশ্রম করে ভালো ফলন পেলেও সেই ফসল সুরক্ষিতভাবে ঘরে তুলতে পারছেন না। এতে একদিকে যেমন তাঁদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহও কমছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।
এই পরিস্থিতিতে বানরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে বগাফা বন দপ্তরের আধিকারিকদের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁদের মতে, সময়মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী দিনে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।
এর প্রভাব শুধু কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এলাকার সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে গেলে বাজারে খাদ্যশস্যের জোগান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাইরের রাজ্য থেকে আমদানি করা কৃষিজ পণ্যের উপর নির্ভরশীলতাও বাড়তে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে কৃষিজ সামগ্রী কিনতে হতে পারে।
তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং এলাকার কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বগাফা বন দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বামছড়া এলাকার কৃষকরা। এখন দেখার বিষয়, কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কী উদ্যোগ গ্রহণ করে।
