আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ অক্টোবর || বয়স মাত্র তিন বছর। এই ছোট্ট বয়সেই নিজের অসাধারণ প্রতিভা, বুদ্ধিমত্তা ও জীবনদক্ষতার পরিচয় দিয়ে এশিয়ান বুক অব ওয়াইল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিল আগরতলার খুদে আদ্যম দে। শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা, চিন্তাশক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতার ক্ষেত্রে তার এই কৃতিত্ব রাজ্যের মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রদান করা শংসাপত্রে ‘কিডস স্পেশাল ট্যালেন্ট, আর্লি লার্নিং, কগনিটিভ স্কিলস অ্যান্ড লাইফ স্কিলস’ বিভাগে আদ্যমের প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এত অল্প বয়সে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার দক্ষতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
জানা গেছে, ট্রেনিং হুইলযুক্ত সাইকেলে ১০০ মিটারের বেশি পথ অতিক্রম করতে পারে আদ্যম। পাশাপাশি, এক মিনিটেরও কম সময়ে ৯ থেকে ১২টি অংশবিশিষ্ট ছবি জোড়া লাগিয়ে ধাঁধার সমাধান করার দক্ষতাও রয়েছে তার। শুধু তাই নয়, বড়দের তত্ত্বাবধানে বয়সোপযোগী রান্নার কাজে অংশ নেওয়া এবং ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অর্জনের মতো বিষয়েও সে পারদর্শিতা দেখিয়েছে।
এর পাশাপাশি নির্দেশিত কল্পনা ও ধ্যানের প্রতিও রয়েছে তার আগ্রহ। ছোট্ট বয়স থেকেই তার মধ্যে শেখার আগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও নতুন কিছু জানার কৌতূহল গড়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের মতে, শিশুর স্বাভাবিক কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক দক্ষতাকে যথাযথভাবে উৎসাহিত করলে তার আত্মবিশ্বাস এবং শেখার ক্ষমতা আরও বিকশিত হয়।
আদ্যমের বাবা অনুজিত দে পশ্চিম ত্রিপুরায় অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত। তার মা আলিশা চক্রবর্তী একজন সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশনের এমআইএস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ছেলের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত পরিবারের সদস্যরা। আদ্যমের সাফল্যের খবরে আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যেও খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। মাত্র তিন বছর বয়সে তার এই অর্জন আগামী দিনে আরও নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দেবে বলে আশাবাদী পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
খুদে বয়সেই প্রতিভার এমন স্বীকৃতি আদ্যম দে-কে ঘিরে ত্রিপুরার মানুষের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। পরিবারের সঠিক দিকনির্দেশনা ও উৎসাহে তার প্রতিভা আগামী দিনে আরও বিকশিত হোক—এমনটাই কামনা সকলের।
