গোপাল সিং, খোয়াই, ১২ অক্টোবর || দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর আবারও সজাগ নেশাগ্রস্থ যুবরা। খোয়াইতে নেশায় আসক্ত যুবকরা বাড়ী-ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। চুরি করছে। পালিয়ে গা ঢাকা দিচ্ছে।
খোয়াইয়ের রাস্তায় আজ যেন দেখা মিলছে এক ভয়াবহ বাস্তবতার— নেশায় বুঁদ এক প্রজন্মের। তরুণদের চোখে নেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন, আছে শুধু নেশার খোঁজ। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে এই বিষ— যা এখন সমাজের জন্য বড় সংকেত।
মাদকের নেশায় ডুবে থাকা যুবকেরা দিন দিন হয়ে উঠছে সমাজের জন্য বিপজ্জনক। টাকা না থাকলেই চুরি, ছিনতাই, বাড়ি-ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র লোপাট— এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। খোয়াই শহরের আনাচে-কানাচে তারা ওত পেতে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়। সম্প্রতি লালছড়া এলাকায় তিন নেশাগ্রস্ত যুবক একসঙ্গে এসে এক গৃহস্থের সুপারি গাছে উঠে পুরো গাছ খালি করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এলেও, একটিও ধরা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ— “একজনকে তাড়া করলে অন্যজন চুরি করে পালায়। এখন ঘরের চাল বেয়ে উঠে নারকেল, সুপারি পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে। দিন-দুপুরে এমন ঘটছে।” শুধু তাই নয়, মোবাইল, সাইকেল, নগদ টাকা চুরির ঘটনাও বাড়ছে হুহু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূলে রয়েছে সীমান্তপথে অবাধ মাদক পাচার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা খোয়াই এখন পরিণত হয়েছে মাদক চোরাচালানের অন্যতম করিডোরে। অনুপ্রবেশের পাশাপাশি এই রুট দিয়ে প্রবেশ করছে বিপুল পরিমাণ নেশাদ্রব্য, যা স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে অতি দ্রুত।
ফলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এই নেশার মহামারিকে। শুভবুদ্ধি মহলের বক্তব্য— “যদি এখনই সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে না তোলা যায়, তবে ত্রিপুরার আগামী প্রজন্ম অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।”
নাগরিকদের দাবি, স্কুল, কলেজ ও পাড়ায় পাড়ায় সচেতনতা অভিযান শুরু করতে হবে, যাতে যুব সমাজ নেশার কবল থেকে মুক্তি পেতে পারে।
খোয়াইবাসীর একটাই আহ্বান— “নেশার এই দানবকে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে, নয়তো আমরা সবাই এই অন্ধকারের অংশ হয়ে যাব।”
