গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ অক্টোবর || মনে পড়ে কিংবদন্তী শিল্পী ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা’র সুর ও কথা? গানের কথায় ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’! কিন্তু খোয়াইতে ‘সেই প্রতীকী আড্ডা’ তাও চা বা কফির আমেজের সাথে তখনও ছিল, আজও ততটাই অম্লান রয়েছে। নেই শুধু শেখর সিং নামে এই আড্ডার একজন সদস্য। সদ্য এই আড্ডাস্থল হারিয়েছে তাঁকে। আজও খোয়াইয়ের অনবদ্য পেট্রোল পাম্পের পাশে মনোজ বর্মনের ছোট্ট চা-কফির দোকানটিতে সন্ধ্যা নামলেই জমে আড্ডা—যেখানে শিক্ষক, সাংবাদিক, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, শিল্পী, আর তরুণ প্রজন্ম—সবাই মিশে যায় এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে। সেই আড্ডা যেন সময়ের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা এক অনুভব, যেখানে চায়ের কাপের ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়ায় হাসি, তর্ক, গান আর স্মৃতির গন্ধ।
আজ সন্ধ্যায় ঠিক সেখানেই বসে গেল স্মৃতিচারণার আসর—নিঃশব্দ এক শোকসভা। শেখর সিংয়ের প্রিয় বন্ধুরা, আড্ডার সঙ্গীরা, তাঁর প্রিয় শহর খোয়াইয়ের মানুষ—সবাই একত্রিত হলেন। কেউ নিয়ে এলেন পুরনো গল্প, কেউ স্মৃতির টুকরো। কেউ বললেন—“শেখর না থাকলে আড্ডাটা ফিকে লাগে, যেন কফির কাপে চিনি কম।”
চায়ের ধোঁয়া মিশে গেল বিষণ্ণ বিকেলের আলোয়। আলোচনা, স্মৃতিচারণ হল ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’—কিন্তু খোয়াইয়ের আড্ডায় যেন প্রতিধ্বনিত হল আরেকটা উত্তর—“আছে, আছে… এখনও আছে, কারণ শেখরদের মতো মানুষরা কোথাও যায় না, তারা থেকে যায় গল্পে, গানে, বন্ধুত্বের স্মৃতিতে।” আজকের এই সন্ধ্যা শুধু শোকের নয়—এ ছিল বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর আড্ডার প্রতি এক নিঃশব্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি।
