গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ অক্টোবর || সময় ১৯৭৮ সালের ১৩ই অক্টোবর। স্থান— খোয়াইয়ের বর্তমান গার্লস স্কুল এলাকা। সেই দিনটি আজও ইতিহাসের পাতায় রক্তাক্ত হয়ে আছে। দুষ্কৃতকারীদের হাতে নৃশংসভাবে প্রাণ হারান জাম্বুরার তৎকালীন (নির্দল) গ্রামপ্রধান নৃপেন্দ্র দেবনাথ। আজ ৪৭ বছর পরও তাঁর আত্মত্যাগ খোয়াইবাসীর মনে এক অবিচ্ছেদ্য শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে রয়ে গেছে।
সোমবার খোয়াই জাম্বুরা স্কুল মাঠে বিজেপি খোয়াই মন্ডল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত হয় শহীদ নৃপেন্দ্র দেবনাথ স্মরণে শহীদ সমাবেশ। সকাল থেকেই ভিড় জমে মাঠে। উপস্থিত ছিলেন কল্যাণপুরের বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায়, বিজেপি খোয়াই জেলা সভাপতি বিনয় দেববর্মা, জেলা সাধারণ সম্পাদক সমীর দাস, খোয়াই মন্ডল সভাপতি অনুকুল দাস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায়, বিজেপি নেতা দেবাশীষ নাথ শর্মা সহ বহু জেলা ও মন্ডল নেতৃত্ব।
শহীদের প্রতিচ্ছবিতে পুষ্পার্পণ করে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব। আবেগঘন পরিবেশে বক্তব্য রাখেন একাধিক নেতা— সকলের মুখেই এক কথা, “নৃপেন্দ্র দেবনাথ শুধু একজন শহীদ নন, তিনি ত্যাগ ও ন্যায়বোধের প্রতীক।”
এই দিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাম্বুরা এলাকায় একটি নতুন রাস্তার নামকরণ করা হয় শহীদ নৃপেন্দ্র দেবনাথের নামে। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের দুই সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা উপস্থিত সকলের চোখে এনে দেয় এক আবেগমাখা মুহূর্ত।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী বলেন, “নৃপেন্দ্রবাবুর আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। তাঁর রক্ত ত্রিপুরার গণতন্ত্রের মাটিকে সঞ্জীবিত করেছে। আমরা প্রতিজ্ঞা করি, তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ত্রিপুরাকে সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নত পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।”
তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায় বলেন, “যে সিপিআই(এম) একদিন রক্ত দিয়ে রাজনীতি করেছিল, আজও তাদের হিংসার ইতিহাস মানুষ ভুলে যায়নি। শহীদদের আত্মত্যাগই আমাদের শক্তি।”
সমাবেশ শেষে সকলেই একমত— নৃপেন্দ্র দেবনাথের স্মৃতি ও আদর্শ খোয়াই ও ত্রিপুরার রাজনীতিতে অনুপ্রেরণার আলো হয়ে থাকবে যুগের পর যুগ।
