সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৯ ডিসেম্বর || সংবিধানসম্মত অধিকার রক্ষা ও জনজাতি স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক দাবিকে সামনে রেখে তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশন জমা দিল ত্রিপুরা রাজ্য উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কমিটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে মহকুমা শাসকের হাতে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
ডেপুটেশনের নেতৃত্বে ছিলেন অরুণ দেববর্মা, অর্পণা কলই ও রতন কিশোর জমাতিয়া। স্মারকলিপিতে সংবিধানের ১২৫তম সংশোধনী কার্যকর করে স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি)-কে আরও আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান, ককবরক ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও সংশোধিত বন আইন বাতিলের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রেশন ব্যবস্থায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ও দুর্নীতি রোধ, বেকার যুবকদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, নেশা ও অবৈধ ব্যবসা দমনে কড়া পদক্ষেপ এবং এডিসি এলাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়।
ডেপুটেশনের আগে সিপিআইএম-এর তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কার্যালয়ে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তেলিয়ামুড়া বাজারে একটি মিছিল সংগঠিত করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে শেষে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে পৌঁছে সাত দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেয়।
প্রতিনিধিদের বক্তব্যে বলা হয়, পাহাড়ি ও প্রান্তিক এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তব প্রয়োগে প্রশাসনের সদিচ্ছা জরুরি। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, দাবিগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে তারা।
এদিকে মহকুমা শাসক দপ্তরের তরফে স্মারকলিপি গ্রহণ করে উত্থাপিত দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
