গোপাল সিং, খোয়াই, ০৯ ফেব্রুয়ারী || সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১১ দফা দাবি সামনে রেখে সোমবার আগরতলার রবীন্দ্র ভবনের সামনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিকদের এক বড় জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। পেশাগত নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, স্বীকৃতি ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নসহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বরিষ্ঠ সাংবাদিক সুবল কুমার দে, সাংবাদিক শানিত দেবরায় এবং সাংবাদিক প্রণব সরকার সহ আরও বহু গণমাধ্যমকর্মী। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হলেও সেগুলির স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের দাবিগুলি সরকারের সামনে তুলে ধরতেই এদিনের কর্মসূচি।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গণঅবস্থান চলাকালীন বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করলেও তাঁদের নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়গুলি প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। বিশেষ করে জেলা ও মহকুমা স্তরে কর্মরত সাংবাদিকদের নানা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হলেও সেই তুলনায় সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত।
সাংবাদিকদের মূল দাবিগুলির মধ্যে ছিল সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, স্বাস্থ্যবিমা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি, স্বীকৃত সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল জোরদার করা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বা আক্রমণের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে ভুয়ো মামলায় সাংবাদিকদের জড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা রোধেও সরকারের সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানানো হয়।
গণঅবস্থান কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন এবং লিখিতভাবে দাবিপত্র পেশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবিগুলি মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বিষয়গুলি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন বলে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিক নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার যদি আন্তরিকভাবে বিষয়গুলি বিবেচনা করে, তবে সাংবাদিক সমাজ উপকৃত হবে এবং গণমাধ্যম আরও স্বাধীন ও শক্তিশালীভাবে কাজ করতে পারবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
