কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন ও ‘দক্ষিণালোক’-এর মলাট উন্মোচন শান্তিরবাজারে

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১১ মে || বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শনিবার শান্তিরবাজারের মুকুট অডিটরিয়ামে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে শান্তিরবাজার মহকুমা সাহিত্য পরিষদের প্রথম বার্ষিক সংখ্যা ‘দক্ষিণালোক’-এর আনুষ্ঠানিক মলাট উন্মোচন করা হয়।
শান্তিরবাজার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, শান্তিরবাজার পুর পরিষদ এবং শান্তিরবাজার মহকুমা সাহিত্য পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দক্ষিণ জেলার জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত। এরপর উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিশ্বকবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৬-শান্তিরবাজার বিধানসভার বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শান্তিরবাজার পৌরসভার পৌরমাতা স্বপ্না বৈদ্য, দক্ষিণ জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান শম্ভু মানিক, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও লেখক অশোকা নন্দ রায় বর্ধন, শান্তিরবাজার পৌর পরিষদের কাউন্সিলর নেপাল চন্দ্র দাস সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শান্তিরবাজার মহকুমা সাহিত্য পরিষদের প্রথম বার্ষিক প্রকাশনা ‘দক্ষিণালোক’-এর মলাট উন্মোচন। উপস্থিত অতিথিরা পত্রিকাটির ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, এই উদ্যোগ এলাকার সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মের সাহিত্যপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং বর্তমান সমাজে রবীন্দ্র দর্শনের প্রাসঙ্গিকতার উপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে সাহিত্যিক অশোকা নন্দ রায় বর্ধন শান্তিরবাজারের এই সাহিত্যিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এদিন আয়োজিত কবি সম্মেলনে মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবিরা স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি রবীন্দ্রসঙ্গীত ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। অনুষ্ঠানে মহকুমা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে শান্তিরবাজারের সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক ও গুণীজনদের সংবর্ধনাও প্রদান করা হয়।
সাহিত্যপ্রেমী, লেখক এবং সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে গোটা অডিটোরিয়াম উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। সুশীল সমাজের মতে, মহকুমা সাহিত্য পরিষদের এই উদ্যোগ শান্তিরবাজারে এক নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণের সূচনা করবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*