গোপল সিং, খোয়াই, ২০ জুলাই || রাজ্যের প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকার গরিব, অসহায় মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে পৌঁছে দিতে এক অভিনব ও জনস্বার্থবাহী দাবি তুললেন রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের জনপ্রিয় বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। রাজ্যের অতি জনপ্রিয় এবং কার্যকরী জনমুখী কর্মসূচি ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু অনুষ্ঠান’-টি যেন আগরতলার বাইরে রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদরেও আয়োজন করা হয়, এই মর্মে আজ ২০শে জুলাই ২০২৬ তারিখে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহাকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, আজই মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় এই চিঠিটি গ্রহণ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করে একে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই ডায়নামিক সিদ্ধান্তের কারণে রাজ্যের বহু দুস্থ নাগরিক ইতিমধ্যে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মূলবাসী তথা সাধারণ গরিব মানুষ অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আর্থিক অনটন এবং অন্যান্য প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দূর-দূরান্ত থেকে তাঁদের পক্ষে আগরতলায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বহু ভুক্তভোগী মানুষ তাঁদের অত্যন্ত গুরুতর ও জেনুইন সমস্যাগুলো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ বা সমাধান চাইতে পারছেন না এবং আগের মতোই কষ্টকর পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকছেন। অনেকেই এই বিষয়ে বিধায়কের কাছে এসে তাঁদের অসহায়তার কথা জানিয়েছেন এবং উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন যে, ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ অনুষ্ঠানটি যেন রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদরে মাসে অন্তত একবার আয়োজন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
যদি জেলা স্তরে এই শুনানি বা সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়াটি শুরু করা যায়, তবে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষেরা সহজেই নিজেদের জেলা সদরে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে উপস্থিত হতে পারবেন এবং তাঁদের অসহনীয় সমস্যাগুলির দ্রুত ও তাৎক্ষণিক সমাধান পাবেন। জনগণের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রীর সংবেদনশীল দপ্তরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে দ্রুত ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই আশাবাদী রাজ্যবাসী ও রাজনৈতিক মহল।
