তেপানিয়া-বরাভুইয়া সড়ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি, হাইকোর্টের আদেশের প্রতিকূল অংশে স্থগিতাদেশ

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ আগস্ট || গোমতী জেলার তেপানিয়া ও বরাভুইয়া গ্রামের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সরকারি সড়ক নিয়ে দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন পাঁচ গ্রামবাসী। সড়কটি গোমতী জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মামলাটি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
১৭ আগস্ট ২০২৬-এ বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ মামলাটিতে ত্রিপুরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ জারি করেছে। একইসঙ্গে ত্রিপুরা হাইকোর্টের ২৩ এপ্রিল ২০২৬-এর রায়ে পাঁচ আবেদনকারীর প্রত্যেকের উপর আরোপিত ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিকূল পর্যবেক্ষণের কার্যকারিতার উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, তেপানিয়া থেকে বরাভুইয়া যাওয়ার একটি পুরনো সড়ক গোমতী জেলা হাসপাতাল চত্বরের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল, ২০২৫ সালের জুন মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লোহার খুঁটি ও টিনের বেড়া দিয়ে ওই সড়কটি বন্ধ করে দেয়। এরপর তাঁরা ত্রিপুরা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ত্রিপুরা হাইকোর্ট সড়কের কথিত দখলদারি সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে অতিরিক্ত তথ্য পেশ করা হলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। জানানো হয়, সড়কটি হাসপাতাল চত্বরের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় রোগী, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের অসুবিধা হচ্ছিল। হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়েও সমস্যা তৈরি হচ্ছিল বলে আদালতে জানানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য বিকল্প একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
২৩ এপ্রিলের রায়ে ত্রিপুরা হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল, আবেদনকারীরা মামলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরেননি। আদালত তাঁদের উপর প্রতিকূল পর্যবেক্ষণ করে ভেঙে ফেলা কাঠামো পুনর্নির্মাণের খরচ আবেদনকারীদের কাছ থেকে আদায়ের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি পাঁচ আবেদনকারীকে প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে ত্রিপুরা হাইকোর্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস কমিটিতে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তেপানিয়ার পাঁচ বাসিন্দা—অজয় দেবনাথ ও অন্যান্যরা। মামলাটি Ajay Debnath & Ors. বনাম State of Tripura & Ors., SLP (Civil) Diary No. 37288/2026 হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের ১৭ আগস্টের আদেশে হাইকোর্টের রায়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিকূল পর্যবেক্ষণ এবং ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা সংক্রান্ত নির্দেশের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারিত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির পক্ষে সওয়াল করেন আগরতলার আইনজীবী নীলৎপল দত্ত।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*