সীমান্তে মানব পাচারচক্রের অভিযোগ, আশারামবাড়ীতে বাংলাদেশি নাগরিক আটক, বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ আগস্ট || ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচারচক্র নিয়ে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ত্রিপুরায়। খোয়াই, আশারামবাড়ী ও আগরতলা রুটকে ব্যবহার করে একটি সক্রিয় পাচারচক্র অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি নিয়ে বিএসএফের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তবে বিএসএফের সঙ্গে পাচারকারীদের যোগসাজশ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সরকারি বা বিএসএফের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
আশারামবাড়ী এলাকায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে এই অভিযোগগুলি সামনে এসেছে। স্থানীয় টিটিএএডিসি-র এমডিসি প্রশমিত দেববর্মা সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, ওয়াইটিএফের সদস্য এবং স্থানীয় জনগণ সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
জানা গেছে, আটক ব্যক্তি বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, দুই দেশের সক্রিয় দালাল বা পাচারকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গল সীমান্ত এলাকা থেকে কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই ব্যক্তি জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অসমে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় পরিচয়পত্রের জাল নথি ব্যবহার করে তিনি খোয়াই ও আগরতলা হয়ে বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন এবং পরে একই রুটে ভারতে ফিরে আসতেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর আশারামবাড়ী ও চাম্পাহাওড় থানা এলাকার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় পাচারচক্র সক্রিয় থাকলেও তা ঠেকাতে নজরদারি আরও কঠোর করা প্রয়োজন।
এদিকে, বিএসএফের সঙ্গে মানব পাচারকারীদের কথিত যোগসাজশ এবং আর্থিক লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এমডিসি প্রশমিত দেববর্মা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জাল নথি ব্যবহার করে ভারতে বসবাসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
আশারামবাড়ীতে আটক বাংলাদেশি নাগরিককে ঘিরে তদন্ত কতদূর এগোয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাচারচক্র সম্পর্কে আরও কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*