ডালাক বিটের ব্যারাক থেকে ফরেস্টার স্বপন ত্রিপুরার মৃতদেহ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত

নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ২২ সেপ্টেম্বর || অমরপুর রেঞ্জের অধীন ডালাক বিটের ব্যারাক থেকে বনদপ্তরের ফরেস্টার স্বপন ত্রিপুরার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার ডালাক বিটের ব্যারাকের একটি ঘর থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ডালাক বিটের ব্যারাকে থাকা অবস্থাতেই মৃত্যু হয় স্বপন ত্রিপুরার। পরে বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের জানালা ভেঙে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে সেখানে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বনদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বপন ত্রিপুরা। ২০০৭ সালে বনদপ্তরে ফরেস্ট গার্ড হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ফরেস্টার পদে উন্নীত হন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বনাঞ্চল ও বনসম্পদ রক্ষার পাশাপাশি বনদপ্তরের বিভিন্ন দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
মৃত স্বপন ত্রিপুরার বাড়ি দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার সাতচাঁদ ছনখোলা এলাকায়। পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বনদপ্তরের কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বপন ত্রিপুরা এলাকায় একজন ভালো ফুটবলার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং স্থানীয়ভাবে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও তাঁর পরিচিতি ছিল।
এদিকে ডালাক বিটের ব্যারাক থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মৃতদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্য ও পরিচিতরা। তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই স্বপন ত্রিপুরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফরেস্ট গার্ড হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ফরেস্টার পদে উন্নীত হওয়া স্বপন ত্রিপুরার এভাবে আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত তাঁর সহকর্মীরাও। ডালাক বিটের ব্যারাকে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হলো, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*