গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ সেপ্টেম্বর || রাজ্যজুড়ে এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের মাঝেই এক বিস্ফোরক ও আত্মবিশ্বাসী দাবি তুলে ধরলেন তিপ্রামথা পার্টির শীর্ষ নেতা তথা রামচন্দ্রঘাট কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। দলের পক্ষে রাজ্যব্যাপী নির্বাচনী প্রচারের মুখ্য দায়িত্বে থাকা রঞ্জিতবাবু স্পষ্ট দাবি করেছেন, রাজ্যের ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির মধ্যে প্রায় ৫০০টি ভিলেজেই জয়ী হবার দৌড়ে বহুদূর এগিয়ে রয়েছে তিপ্রামথা পার্টি। নিজের খাসতালুক রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের হিসাব তুলে ধরে বিধায়ক জানান, এই অঞ্চলের মোট ১৮টি ভিলেজ কমিটির মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৮টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে তিপ্রামথা পার্টি। অবশিষ্ট মাত্র ৭টি আসনে আজ উৎসবের মেজাজে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে, যেখানেও সমর্থকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন।
বিগত দিনের রাজনৈতিক বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করে রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, “একটা সময় বিরোধী দলগুলো উসকানি দিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল যে, এডিসিতে ‘বুবাগ্রা’ প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মণের নেতৃত্বে তিপ্রামথা ক্ষমতায় এলে নাকি অ-জনজাতি বা বাঙালি অংশের মানুষকে উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু বিগত ৫ বছরে আমাদের সরকার ও দলের কাজের মধ্য দিয়ে সেই অপপ্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের ধারণা ইতিবাচকভাবে বদলেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, আজ ভোটকেন্দ্রগুলিতে জনজাতি ও অ-জনজাতি উভয় অংশের মানুষের বিপুল উপস্থিতি এবং মেলামেশাই প্রমাণ করে যে জনজাতি-বাঙালি সম্প্রীতি কতটা সুদৃঢ় হয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, সমগ্র রাজ্যের ৪৫৯৭টি আসনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৫৫৭টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হাসিল করে নিয়েছে তিপ্রামথা। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিশেষ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেখানকার বাঙালি অংশের মানুষও এখন তিপ্রামথার প্রতি প্রচণ্ড উৎসাহিত এবং দলের নীতির প্রতি তাঁদের বিশেষ আস্থা ও মোহ তৈরি হয়েছে। ভোটের সার্বিক আবহাওয়া এবং সাধারণ মানুষের উৎসাহ দেখে পাহাড়িয়া অঞ্চলগুলিতে পুনরায় তিপ্রামথার নিরঙ্কুশ জয়ের বিষয়ে একশ শতাংশ নিশ্চিত বলে জানান বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
