আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ অক্টোবর || রাজ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করল ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। সোমবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রিপুরা পুলিশকে ৩৫টি আধুনিক সাউন্ড লেভেল মিটার প্রদান করা হয়। শব্দদূষণের মাত্রা পরিমাপ এবং আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই যন্ত্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের প্রধান সচিব শান্তনু (আইএএস) এবং ত্রিপুরা পুলিশের আইজিপি মাককব ইয়ার (আইপিএস)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. কে. শ্রীকুমার (আইএফএস), বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের অধিকর্তা শ্রী মংখেম সিং (আইএফএস) এবং পর্ষদের সদস্য সচিব ড. বি. কে. কর্মকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন পর্ষদের সদস্য সচিব ড. বি. কে. কর্মকার। তিনি শব্দদূষণ রোধে প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এরপর রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. কে. শ্রীকুমার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন, নির্ধারিত ডেসিবেল মাত্রা এবং বৈজ্ঞানিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান সচিব শান্তনু পরিবেশ সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। অন্যদিকে, আইজিপি মাককব ইয়ার আশ্বস্ত করেন যে, উৎসবের মরশুম ও সাধারণ দিনগুলিতে জনসাধারণের শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ বাহিনী এই সাউন্ড লেভেল মিটারগুলি যথাযথভাবে ব্যবহার করবে।
অনুষ্ঠানের মূল পর্বে মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপুরা পুলিশের হাতে ৩৫টি সাউন্ড লেভেল মিটার তুলে দেন। এদিন আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রের সারজে সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন কার্যকর করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে উৎসবের সময় এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলার বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে সাউন্ড লেভেল মিটারের সাহায্যে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপ্তি বক্তব্য রাখেন শ্রী মংখেম সিং।
উল্লেখ্য, মূল অনুষ্ঠানের পর পুলিশ আধিকারিকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ শিবিরেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে সাউন্ড লেভেল মিটার পরিচালনার পদ্ধতি, যন্ত্রের নির্ভুলতা যাচাই এবং শব্দের পরিমাপ সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে নথিভুক্ত করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি আরও কার্যকর হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
