কলাছড়া টুইপুমা ইবেনেজার হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে প্যারেন্টস ডে উদযাপন, উপস্থিত সাংসদ কৃতি সিং দেববর্মা

নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ১০ অক্টোবর || অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পড়াশোনা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে সাব্রুম মহকুমার কলাছড়া এলাকার টুইপুমা ইবেনেজার হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো প্যারেন্টস ডে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব ত্রিপুরার লোকসভা সাংসদ কৃতি সিং দেববর্মা, এমডিসি দেবজিৎ ত্রিপুরা, বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ইয্রা ত্রিপুরা-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী রিসা পরিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দিয়ে তাদের কৃতিত্বকে সম্মান জানানো হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয় বিদ্যালয়ের ছাত্রী নিনাবি ত্রিপুরাকে। সিবিএসই বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ৯১.৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করায় তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সাংসদ কৃতি সিং দেববর্মা তাঁর হাতে শংসাপত্রের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এই স্বীকৃতি অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও আগামী দিনে ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্যারেন্টস ডে উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল বিশেষ আকর্ষণ। নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরে। অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে গোটা অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সাংসদ কৃতি সিং দেববর্মা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরিকাঠামো পরিদর্শন করেন। তিনি বয়েজ হোস্টেল, গার্লস হোস্টেল, রান্নাঘর ও ডাইনিং হল ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার বিষয়েও খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ জানান, আগের তুলনায় ইবেনেজার হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের পরিকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে এখনও কোনও সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে নিজের সাধ্যমতো উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সাংসদের এই আশ্বাসে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর আরও উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদী বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট মহল। পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও এই প্যারেন্টস ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*