আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০২ ডিসেম্বর ৷৷ অক্ষত এবং সুস্থ্য অবস্থায় অপহৃত চার ব্যাঙ্ক কর্মী ৭ দিন পর বাড়ি ফিরলেও তাদের অপহরণকান্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্নচিহ্ন দানা বেঁধেছিল। কেননা দীর্ঘ ৭দিন পর শুক্রবার সকালে তৈদু গ্রামীণ ব্যাঙ্ক ম্যানেজার তন্ময় ভট্টাচার্য, সহকারী ম্যানেজার রক্তিম ভৌমিক, ক্যাশিয়ার সুজিত দে এবং গ্রুপ ডি (ডি আর ডাব্লিও) সুব্রত দেববর্মা এই চারজন অপহৃত ব্যাঙ্ক কর্মী বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু ব্যাঙ্ক এর গ্রুপ ডি (ডি আর ডাব্লিও) সুব্রত দেববর্মা জানান, কোনোরূপ মুক্তিপণ ছারাড়া অপহরণকারীরা বৃহস্পতিবার রাতের আধারে তাদের তেলিয়ামুড়া মহকুমার মানিকবাজার এলাকায় ছেড়ে দিয়ে চলে যায়।অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় আগরতলার ধলেশ্বর এলাকায় তৈদু গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার রক্তিম ভৌমিকের নিজ বড়িতে সাংবাদিক সন্মেলন করে রক্তিমের বাবা রতন ভৌমিক জানান, ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছে অপহৃত চার ব্যাঙ্ক কর্মী। তিনি বলেন, প্রথম থেকেই অপহরণকারীরা চাপ সৃষ্টি করছিল ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার জন্য। তারা অনেক অনুনয় বিনয় করেও মুক্তিপণের অর্থের পরিমান কমাতে পাড়েনি। ফলে বাধ্য হয়ে রক্তিম ভৌমিক, সুজিত দে এবং তন্ময় ভট্টাচার্য এর পরিবার ৫০ লক্ষ টাকা জোগার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমার মানিকবাজার এলাকার একটি বাড়িতে দিয়ে আসেন। এরপর কে বা কারা এই অর্থ কিভাবে নিয়ে গেছেন তারা জানেন না। রতন বাবু জানান, মুক্তিপণ দেওয়ার পরের দিন অর্থাৎ শনিবার তাদের ছেলে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। রতন বাবু রাজ্য সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার যেন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
শনিবার এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোট ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এসের মধ্যে দু’জন আগরতলার কৃষ্ণনগর এবং শ্যামলীবাজার এলাকা এবং বাকি দু’জন তেলিয়ামুড়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
