৮ম দিনে রাজ্য সরকারের আশ্বাসে রিয়াং শরণার্থীদের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার

Riyangআপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৭ নভেম্বর ৷। টানা ৮ দিন ধরে রিয়াং শরণার্থীদের রাস্তা অবরোধের ফলে আগরতলা থেকে প্রায় ২১৭ কিমি দূরে মিজোরাম এবং ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী আশা পাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষদের জনজীবন প্রায় বিপন্ন হয়ে পরেছে। প্রশাসনের তরফে বহুবার বৈঠকে বসেও জট খুলতে পারছে না বলে জানা যায়। জানা যায়, গত এক মাস আগে সেখানে বসবাসকারী রিয়াং শরণার্থীদের রেশন বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। এই কারণে ৪ ব্রু জনজাতির মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রতিবাদে ব্রু জনজাতির মানুষেরা গত ৩১শে অক্টোবর থেকে ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে। এই অবরোধ নিয়ে উত্তর ত্রিপুরা জেলা শাসক, উত্তর ত্রিপুরা পুলিশ সুপার, কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসক ও রিয়াং শরনার্থী নেতাদের মধ্যে কাঞ্চনপুর রেভিনিউ ডাকবাংলায় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোন সমাধান সুত্র বেড় হয়নি বলে জানা যায়।
এই সমাধান সূত্র বের করতে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যের উপ-মূখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ, সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, বনমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া, রাজ্যের দুই সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক ও রেবতী কুমার ত্রিপুরা প্রমুখ সেখানে উপস্থিত হন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অবরোধ স্থলে গিয়ে কথা বলেন রিয়াং শরণার্থীদের সাথে। তাদের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রিয়াং শরণার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল আগরতলা আসার জন্য এবং আলোচনায় বসার জন্য। তারা সেই প্রস্তাবে রাজি। রাজ্য সরকারের প্রস্তাবে রাজি হয়ে আপাতত তারা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান শরণার্থীদের এক প্রতিনিধি। এইদিন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সাময়িক কালের জন্য পূর্বের ন্যায় শরণার্থীদের রেশনসামগ্রী প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে মিজোরাম রাজ্যে সংঘর্ষের জেরে প্রায় ৩৭ হাজার ব্রু জনজাতির মানুষ ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর জেলায় সাতটি শিবিরে অবস্থান করছেন।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*