আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ২২ মার্চ || বিয়ের ছয় মাসের মধ্যেই মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ তরুণী বধু। পুলিশের ধারণা আত্মহত্যার চেষ্টা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে বধুকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি মধ্যবক্সনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬নং ওয়ার্ড এলাকায়। কলমচৌড়া থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আহত বধুর নাম সিমা আক্তার। তার বয়স ২১ বছর। পিতার নাম আবুলকালাম। বাড়ী একই এলাকায়। জানা গেছে, গত নয় বছর আগে ভালোবেসে একই এলাকার মুখলেস মিয়ার ছেলে তবদুল হোসেনের (২৮) সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিবাহ হয় তার। তবদুল কর্মসূত্রে বিয়ের পর থেকেই বিদেশে ছিল। তাদের বর্তমানে একটি আট বছরের কন্যা সন্তানও রয়েছে। অভিযোগ স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে তাকে প্রায় সময়ই মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো। গৃহবধু স্বামীর সাথে ঝগড়া করার কারণে গত তিন থেকে চার দিন তার শশুর বাড়িতে কোন রকম খাওয়া-দাওয়া করছে না বলে জানা গেছে।বাড়িতে কাজ করতো না বলে তাকে নিয়মিত অত্যাচার চালিয়ে যায় তার শ্বশুর-শাশুড়িরা এমনটাই খবর। সোমবার সকালে শ্বশুর বাড়িতে ঘরের মধ্যে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন সীমা। তার শরীর আগুন দিয়ে তা জ্বলতে থাকায় আর সহ্য করতে না পেরে ঘরের বাইরে এসে চিৎকার করতে থাকে। তখন এলাকার লোকজন এসে তার শরীরের কিছুটা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরবর্তী সময়ে সীমাকে স্থানীয় বক্সনগর সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে আগুনে তার শরীরের প্রায় ৮৫ ভাগ পুড়ে গেছে। অভিযুক্ত স্বামী বর্তমানে পলাতক। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।স্থানীয় মানুষরা জানিয়েছেন সীমাকে তার শশুর শাশুড়ি ও স্বামী বিয়ের পর থেকেই জ্বালাতন করতেন। এদিকে সীমার বাপের বাড়ির লোকেরা খুব উত্তেজিত। তাদের দাবি কেউ তার শরীরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত তিনদিনে বক্সনগর এলাকায় দুইজন গৃহবধূর শরীরে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আর তাতে রবিবার মৃত্যু হয় দুপুরিয়াবান্দ এলাকার সোনালী আক্তার নামের গৃহবধুর।
