কল্যাণপুরে মেয়াদ উত্তীর্ণ রুটি খেয়ে চিকিৎসারত দুই, বিরূপ প্রতিক্রিয়া সর্বত্র

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০২ জানুয়ারি || খাদ্য দপ্তরকে এক প্রকার ঘুমে রেখে কল্যাণপুরে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য সামগ্রী বিক্রির রমরমা। এই নিয়ে এর আগেও রাজ্যের বেশকিছু সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। যার ফলে দু’নম্বরী ব্যবসায়ীরা তাদের দু’নম্বরী ব্যবসার ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করে চলেছেন। আর কল্যাণপুরের গ্রামীণ এলাকার সাধারন মানুষেরা এদের খপ্পরে পড়ে অনেকাংশে রোগে যেমন ভুগছেন ঠিক তেমনি বিভিন্ন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিচ্ছে।
এরকমই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটলো রবিবার সন্ধ্যায় কল্যাণপুরে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কল্যাণপুর বাজারে অবস্থিত জনৈক দীপঙ্কর গোপের দোকানে নানান প্রকারের প্যাকেটজাত খাদ্য সামগ্রী বিক্রি হয় দীর্ঘদিন ধরেই। যদিও দোকানের খাদ্য দপ্তরের কোন প্রকারের অনুমোদন পত্র পাওয়া যায়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন প্রকারের রুটি কেক বিস্কুট সহ নানান ধরনের খাদ্য সামগ্রী প্রতিনিয়ত কল্যাণপুর বাজারে বিক্রি হয় বলে অভিযোগ। এদিন স্থানীয় সমীর দাস এবং অপু রায় নামে দুই ব্যক্তি দীপঙ্কর গোপের দোকান থেকে রুটি কিনে বাড়িতে নিয়ে যায়, তারপর সান্ধ্যকালীন খাবারের অংশ হিসেবে যখন এগুলা খেতে শুরু করে তখন হঠাৎ করে তারা দেখতে পান এর মধ্যে নানান প্রকারের ছত্রাকজাতীয় কিছুটা বাসা করে ফেলেছে, এর ফলে তৎক্ষণাৎ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উনারা। যখন উনারা রুটিগুলো খাচ্ছিলেন তখন বিদ্যুৎ ছিল না এর ফলে উনারা দেখতে না পেয়ে এই খাবার অযোগ্য রুটি খেয়ে ফেলেন বলে এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন সমীর দাস, অপু রায়। এই রুটি খাবার সাথে সাথেই এদের শরীরে বিভিন্ন প্রকারের অসুবিধা দেখা দিতে থাকে, বমি ভাব করতে থাকে। এরপর তারা স্থানীয় কল্যাণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে এসে নিজেদেরকে চিকিৎসা করান। এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে কল্যাণপুর প্রেস ক্লাবের সংবাদ প্রতিনিধিদের তরফ থেকে স্থানীয় দোকানদার দীপঙ্কর গোপের কাছে এই বিষয়ে জানতে গেলে তিনি আমতা আমতা করে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও ঘটনার জন্য পুরোপুরি দোষী সাব্যস্ত করেন স্থানীয় মন্দিরা বেকারীকে। এই ঘটনাটা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিক এই বিষয়টা অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, শুধু তাই না দোকানে কেন খাদ্য দপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষ লাইসেন্স নেই এই প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি দোকানী।
কল্যাণপুরের মধ্যে হঠাৎ করে এরকম ভাবে মেয়াদ‌ উত্তীর্ণ প্যাকেটজাত খাদ্য দ্রব্যের ব্যবসার প্রসার ঘটায় মানুষের আতংক প্রতিনিয়তই বাড়ছে বলা চলে। আজকের ঘটনার সাথে আমরা যদি প্রায় তিন চার মাস আগের একটা ঘটনাকে মিলিয়ে আলোচনা করি তো দেখা যায় আজকের রুটিগুলো আনা হয়েছিল মন্দিরা বেকারি থেকে, এই বেকারির বিভিন্ন অনৈতিক কাজ কর্ম সম্পর্কে আজ থেকে তিন চার মাস আগে নানান প্রকারের সংবাদ পরিবেশিত হয়েছিল। কিন্তু কিভাবে বা কোন যাদু বলে দিনের-পর-দিন মন্দিরা বেকারি এই অবৈধ ব্যবসা করছে বা মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রিক কল্যাণপুর সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে এর জবাব চাইছে সাধারণ মানুষ।
এই রুটি খেয়ে অসুস্থ অপু রায় এবং সমীর দাস বর্তমানে কল্যাণপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর এই ঘটনার জেরে স্থানীয় ব্যবসায়ী সহ সাধারন মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এখন দেখার এই বিষয়ে খাদ্য দপ্তর থেকে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কি ভূমিকা গ্রহণ করা হয়।
এই বিষয় নিয়ে কল্যাণপুর মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন মজুমদার জানিয়েছেন, যেকোনো ব্যবসায়ীদের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে সবসময়ই কথা বলে কল্যাণপুর মার্চেন্ট এসোসিয়েশন। এ ব্যাপারে যদি সংশ্লিষ্ট বেকারি বা দোকানদার কোনভাবে অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত থাকে তাহলে প্রশাসন যদি কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করে তাহলে কল্যাণপুর মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের তরফ থেকে স্বাগত জানানো হবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*