গোপল সিং, খোয়াই, ২৭ জুন || শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক সামাজিক ক্ষেত্রে গত ২০২৫ সাল থেকে নিরলস কাজ করে চলেছে সামাজিক সংস্থা ‘সেতুবন্ধন’। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই সংস্থা সাধারণ মানুষের মাঝে নিজের এক বিশেষ পরিচিতি গড়ে তুলেছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেতুবন্ধন সামাজিক সংস্থার উদ্যোগে এবং ‘তুলির পরশ আর্ট স্কুল’-এর সক্রিয় সহায়তায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সাক্ষী হলো পুরাতন আগরতলা ইংরেজি মাধ্যম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। চলতি বছরের ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান এবং একই সাথে এক মনোজ্ঞ বসে আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
এই অনুষ্ঠানটির শুভ সূচনা হয় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতের মাধ্যমে। এরপর চিরাচরিত প্রথার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে এক অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে চারাগাছে জল সিঞ্চন করে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি তথা স্থানীয় বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। উদ্বোধনী পর্বের পর উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে স্বাগত ভাষণ রাখেন সেতুবন্ধন সামাজিক সংস্থার সম্পাদক টুকন ঘোষ। এই মেগা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পুরাতন আগরতলা ব্লকের অন্তর্গত মোট ৫টি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ২৭ জন কৃতি ছাত্র-ছাত্রীকে তাদের অসামান্য ফলাফলের জন্য বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। নতুন দিগন্তের এই কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে উপস্থিত অতিথিরা তাদের আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। সংবর্ধনা সভার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে আয়োজন করা হয়েছিল একটি আকর্ষণীয় বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় এলাকার বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ১০০ জন খুদে ও তরুণ শিল্পী অংশ নেয়। ক্যানভাসের বুকে নান্দনিক রঙ আর তুলির টানে শিশুরা ফুটিয়ে তোলে তাদের নিজস্ব ভাবনা, যা উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে আপ্লুত করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এলাকার বিধায়ক রতন চক্রবর্তী কৃতিদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মেধার বিকাশ ও সংস্কৃতির চর্চা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনই একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজেশ ভৌমিক এবং উত্তর চাম্পামুড়া গ্রাম পঞ্চায়তের প্রধান অনিমা দাস। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করতে উপস্থিত ছিলেন সেতুবন্ধন সামাজিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বজিৎ রুদ্র পাল, সভানেত্রী মৈত্রী চক্রবর্তী, সংস্থার অন্যতম সক্রিয় সদস্য শান্তি দাস সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং তুলির পরশ আর্ট স্কুলের পরিচালন কর্মকর্তারা। একটি সামাজিক সংস্থা ও আর্ট স্কুলের এই যৌথ ও প্রশংসনীয় প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে উপস্থিত অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ। আগামী দিনেও সেতুবন্ধন সংস্থা ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থেকে এভাবে কাজ করে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উদ্যোক্তারা।
