সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ৩১ মার্চ || জাতীয় সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলাকালীন সময়ে পাহাড় কাটার ফলে পাহাড় ধসে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২৩টি পরিবার। ক্ষতিপূরণের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত’রা সহ এলাকাবাসীরা জাতীয় সড়ক অবরোধে বসে। এই মাটি কাটার ফলে এলাকার আরো বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। ফলে ৪৬টি পরিবারকে শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে বলে খবর এলাকা সূত্রে। ঘটনা, মুঙ্গিয়াকামী আর.ডি ব্লকের অধীন আঠারোমুড়া পাহাড়ের ৪৫ মাইল এলাকায়।
সংবাদে প্রকাশ, দীর্ঘদিন ধরেই আঠারোমুড়া পাহাড়ে জাতীয় সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে বহিঃরাজ্যের একটি ঠিকেদার সংস্থা কতৃক। যথারীতি পাহাড় কেটে জাতীয় সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। আর এই পাহাড় কাটার ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ আঠারোমুড়া পাহাড়ের ৪৫ মাইল এলাকায় পাহাড়ি টিলা ভূমিতে বসবাসকারী জনজাতি অংশের মানুষজনদের বাড়িঘর ধ্বসে পড়ে বলে অভিযোগ। পাহাড় ধ্বসে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ২৩টি পরিবার। বর্তমানে আরো বিশাল পাহাড় জুড়ে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে ৪৫ মাইল এলাকার ওই পাহাড়ি ভূমিতে বসবাসকারী আরো কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ধ্বসে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই সম্পূর্ণ ঘটনা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে এবং এলাকাবাসীদের এই সমস্যা সমাধানের দাবিতে শুক্রবার ৪৫ মাইল এলাকায় আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধে বসে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজাতি অংশের লোকজন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা চলে এই জাতীয় সড়ক অবরোধ। এই সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে অবরোধস্থলে পৌঁছায় মুঙ্গিয়াকামি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং খবর দেওয়া হয় মহকুমা প্রশাসন সহ PWD দপ্তর’কে। পরবর্তীতে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা পর অবরোধস্থলে পৌঁছায় মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকেরা এবং অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা চলে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথাবার্তা। পরবর্তীতে প্রশাসনের আধিকারিকদের আশ্বাস পেয়ে এবং অতিদ্রুত এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস মূলে অবরোধ মুক্ত হয় জাতীয় সড়ক।
আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা অবরোধ থাকার ফলে রাস্তার দু’ধারে আটকে পড়ে শত শত ছোট বড় যানবাহন। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষজন থেকে শুরু করে যাত্রী সাধারনের।
