সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০৩ জানুয়ারি || তেলিয়ামুড়া মহকুমার বন কর্মীদের গাফিলতির কারণে নিত্য দিন বন্য দাঁতাল হাতির উন্মক্ত তাণ্ডব চলছে রাতের আধারে। অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও বন্য হাতির দল নির্বিচারে তাণ্ডব চালায় চাকমাঘাট বাজার কলোনি এলাকায়। এদিন রাতে বন্য হাতির দল উন্মক্ত তান্ডব চালিয়ে দুটি বসতঘড় সহ কৃষিজ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে বলে অভিযোগে এলাকাবাসীদের। যদিও ওই সময় বনদপ্তরের নিয়োগ করা ভলেন্টিয়ার কর্মীরা এলাকায় উপস্থিত থাকলেও দাঁতাল হাতির উন্মক্ত তাণ্ডব প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে বন্য হাতির দল বিনা বাধাই তাণ্ডব চালায়। এতে প্রচন্ডভাবে ক্ষতির শিকার হয় এলাকার গৃহস্বামী। এ যেন নিত্যদিন হাতি আতঙ্কে ব্যস্ত থাকতে হয় এলাকাবাসীদের।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রত্যক্ষ করতে গেলেও বনকর্মীরা ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করে অফিস মুখি হয়ে পরেন। জানা গেছে, বন্য দাঁতাল হাতির তাণ্ডব বিষয় সংক্রান্ত নিয়ে তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের অফিস কক্ষে এক রুদ্ধ দ্বার বৈঠক হয়েছিল এই সমস্যা সমাধানের জন্য। কিন্তু এই বৈঠকের পরেই বন্য দাতাল হাতির দল তাদের উন্মক্ত তান্ডব আরো তেজী করে তুলে। এতে এলাকার মানুষজনের অবস্থা ত্রাহী ত্রাহী ভাব। ইদানিং কালে এলাকার মানুষজনরা দলমত নির্বিশেষে ভেবে উঠতে পারছে না কি করলে তাদের এই সমস্যা সমাধান হবে। যদিও এলাকার মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বন্য দাঁতাল হাতির উন্মক্ত তাণ্ডব বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট ভাবে ওয়াকি বহাল। কিন্তু এরপরেও এই নিদারুণ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। যার ফলে ২৯-কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রে খুব বিক্ষোভ চলছে জোর কদমে। নিষ্কর্মা বন দপ্তরের কর্মীরা অফিসের চার দেয়ালের মধ্যেই নিজেদের আবদ্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ কৃষ্ণপুর এলাকাবাসীর।
এদিকে মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় চাকমাঘাট বাজার কলোনীর এলাকার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অজিত দেবনাথ ক্ষোবের সাথে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে নামকা বাস্তে পরিদর্শন করে ফের অফিস মুখী হয়ে পড়েন। বন্য দাতাল হাতির তাণ্ডবের সমাধান করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বনাকর্মীরা।
