রেল দুর্ঘটনায় ৭৫ বছরের বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু, রেল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৮ জুলাই || তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত মাইগঙ্গা এলাকায় শুক্রবার সকালে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা। করিমগঞ্জগামী ডেমু ট্রেনের ধাক্কায় কাটা পড়ে মৃত্যু হয় মনমোহন সরকার (৭৫) নামক এক বৃদ্ধের। দুর্ঘটনাটি সকাল আনুমানিক ৮টা নাগাদ ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৃদ্ধ মনমোহন সরকার নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত রেল লাইনে উঠে পড়েন এবং সেই সময় দ্রুত গতির ডেমু ট্রেনটি তাঁকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু অবাক করার বিষয়, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে রেল স্টেশন থাকলেও, রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় নেয়। ততক্ষণ পর্যন্ত মৃতদেহ ট্র্যাকে পড়ে থাকায় আগরতলাগামী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। রেল লাইনে ছড়িয়ে থাকা ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহের দৃশ্য যাত্রীদের মধ্যে ভীষণ হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও রেল যাত্রীদের অনেকেই রেল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের প্রশ্ন, এত কাছে স্টেশন থাকা সত্ত্বেও কেন এত দেরি হলো উদ্ধার কাজে?
অন্যদিকে, এই মৃত্যুর পিছনে আত্মহত্যা না দুর্ঘটনা—তা নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী অসাবধানতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
পরে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় ময়না তদন্তের জন্য।
উল্লেখযোগ্য, এর আগেও মাইগঙ্গা এলাকায় একই ধরনের রেল দুর্ঘটনায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, রেল কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত কোনও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত রেল লাইনের পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি রেল পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও প্রাণহানি না ঘটে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*