বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০৮ আগস্ট || অবশেষে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসলো বগাফা কৃষি দপ্তর। দপ্তরের তত্বাবধায়ক রাজীব সেনের নিস্ক্রিয়তা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টের পর লোকদেখানো উদ্যোগ হিসেবে বৃহস্পতিবার মাঠে নামলেন তিনি। বগাফা কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধানে কাঞ্চননগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আয়োজিত হলো ধানচাষ সংক্রান্ত এক কর্মসূচি।
এই কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় কৃষকদের জমিতে কমিউনিটি ট্রান্সপ্লান্টিং পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে কৃষকদের নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে ধানচাষে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শান্তিরবাজার পুর পরিষদের চেয়ারম্যান সপ্না বৈদ্য, ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, বগাফা কৃষি দপ্তরের তত্বাবধায়ক রাজীব সেন, বগাফা পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল পাটারী, শান্তিরবাজার পুর পরিষদের কাউন্সিলার নেপালচন্দ্র দাস এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী দেবাশীষ ভৌমিকসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা জানান, “আগে কৃষকদের সার বা অন্য কৃষি উপকরণ পেতেই আন্দোলন করতে হতো, নেতৃত্বদের সাক্ষর জোগাড় করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে কোনো প্রকার প্রতিবাদ ছাড়াই কৃষকেরা সহজেই সমস্ত সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন।” তিনি কমিউনিটি ট্রান্সপ্লান্টিং পদ্ধতির গুরুত্বও তুলে ধরেন।
সভা শেষে অতিথিরা ও কৃষকরা মিলে মাঠে গিয়ে ধানের চারা রোপণ করেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা জানান, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কৃষকদের আধুনিক কৃষিপদ্ধতির সাথে যুক্ত করা এবং তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
এই কর্মসূচি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হলেও স্থানীয় মহলের একাংশের মতে, সংবাদ প্রকাশের পর দপ্তরের এই তৎপরতা আদৌ স্থায়ী উদ্যোগ কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
