গোপাল সিং, খোয়াই, ১০ আগস্ট || যখন স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে শিকড়ের সংস্কৃতি, তখনও ত্রিপুরার গ্রামে-গঞ্জে অমলিন হয়ে আছে লোকবিশ্বাসের অটুট পরম্পরা। তারই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি দেখা গেল খোয়াই মধ্যগণকী গাঁও সভায়, যেখানে মনসা মঙ্গল প্রতিযোগিতার সুরে ভক্তি ও লোকসংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটল।
বিশিষ্ট সমাজসেবী সমীর দাস জানান, পদ্মপুরাণ শুধু একটি কাব্যগ্রন্থ নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের শিরায় বয়ে চলা এক জীবন্ত বিশ্বাস—যেখানে ভক্তি প্রতিকূলতাকে জয় করার শক্তি জোগায়। সেই বিশ্বাসকেই সঙ্গী করে মধ্যগণকীর মঞ্চে বেহুলার করুণ আর্তি, লখিন্দরের সর্পদংশন আর মা মনসার অমোঘ লীলা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল তাদের সুরে, অভিনয়ে ও গায়নে ফুটিয়ে তুলল এক লোকগাথার মহাকাব্যিক আবেদন, যা উপস্থিত কয়েকশো দর্শক-শ্রোতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল। এই অনুষ্ঠান শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিযোগিতা ছিল না, ছিল সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস, বললেন সমীর দাস। প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী সমীর দাস, অনুকুল দাস সহ উপস্থিত গাঁওসভার গুণিজনরা।
