গোপাল সিং, খোয়াই, ২৩ সেপ্টেম্বর || গোমতী জেলার অমরপুর মহকুমার বামপুর এলাকায় এক ভয়াবহ পারিবারিক ট্র্যাজেডি ঘটল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে মদ্যপ অবস্থায় সুভাষ দাস দা দিয়ে তার স্ত্রী রিতা দাসকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। মায়ের আর্তচিৎকার শুনে এগিয়ে আসা তাঁদের কন্যা পিপাসা দাসও দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয়।
ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে এলাকাবাসীরা তৎক্ষণাৎ দমকল বাহিনীকে খবর দেয়। দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত রিতা ও পিপাসাকে উদ্ধার করে অমরপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর রিতাকে গুরুতর অবস্থায় গোমতী জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। পরে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে মেয়ে পিপাসাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুভাষ দাসকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিরগঞ্জ থানার পুলিশ অভিযানের পরও তার কোনো হদিস পায়নি। কিন্তু আজ সকালে বামপুরের চন্দ্র মোহন পাড়ায় ছড়ার ধারে একটি গাছে স্থানীয়রা সুভাষ দাসের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নার রোল উঠেছে সর্বত্র। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন ধরেই সুভাষ দাস মদ্যপ অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে অশান্তি করত। তবে এভাবে রক্তাক্ত পরিণতি ঘটবে, তা কেউই কল্পনা করতে পারেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে মৃত সুভাষ দাসের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক কলহ না কি অন্য কোনো কারণ, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
