জাতীয় ডেস্ক, অসম, ২৩ সেপ্টেম্বর || অসমের ভূমিপুত্র জুবিন গর্গকে বিদায় জানাতে উপচে পড়ল ভক্তের ঢল। শুক্রবার সিঙ্গাপুরে প্রয়াত হওয়ার পর রবিবার তাঁর নিথর দেহ পৌঁছয় গুয়াহাটি বিমানবন্দরে। তিন দিন ধরে কার্যত থমকে যায় অসম। মঙ্গলবার সকালে কামারকুচি এনসি গ্রামে একুশ তোপে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় জনপ্রিয় গায়কের।
গুয়াহাটির রাস্তায় শববাহী গাড়ির কফিন দেখে ভেঙে পড়েছে অগণিত ভক্ত। আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ চোখের জলে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন। এত মানুষের উপস্থিতি বিশ্বের সর্ববৃহৎ চতুর্থ জমায়েত হিসেবে জায়গা করে নিল লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে।
অর্জুন বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্স থেকে শুরু হয়ে শববাহী যাত্রা পৌঁছয় কামারকুচির শেষকৃত্যস্থলে। সেদিন আকাশ-বাতাস মুখরিত হয় ‘জয় জুবিনদা’ স্লোগানে। আরেকদিকে বাজতে থাকে জুবিনেরই জনপ্রিয় গান ‘মায়াবিনি রাতির বুকুত’—যেন ভবিষ্যদ্বাণীর মতোই। আবেগে ভেসে যান উপস্থিত অনুরাগীরা।
গায়ককে বিদায় জানাতে ভিড় জমে যায় শেষকৃত্যস্থলে। স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সামলাতে এগিয়ে আসেন স্বজনরা। আবেগঘন সেই মুহূর্তে কেঁদে ওঠেন সকলে।
অসম সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কামারকুচিতে জুবিনের স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য ১০ বিঘা জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। শিল্পী দিগন্ত ভারতী গায়কের শেষ স্মৃতি ধরে রাখতে তাঁর পদচিহ্ন মোমে বন্দি করে তৈরি করেছেন বিশেষ পাদুকা।
উত্তর-পূর্বের সংগীত জগতের অমর স্রষ্টা জুবিন গর্গকে শেষ বিদায় জানিয়ে অশ্রুভেজা ইতিহাস গড়ল অসম। শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
