গোপাল সিং, খোয়াই, ১৫ অক্টোবর || ত্রিপুরার খোয়াই মহকুমার আশারামবাড়ি সীমান্ত এলাকায় গরু চুরি করতে এসে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন তিন বাংলাদেশী নাগরিক। মঙ্গলবার গভীর রাতে চোরেরা সীমান্ত পেরিয়ে গ্রামে প্রবেশ করলে গ্রামবাসীরা তাদের ধরে ফেলে। প্রতিরোধ করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে, এবং উত্তেজিত জনতা তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তাঁরা হলেন— (১) জুয়েল মিয়া (পিতা মৃত আশরাফ উল্লা, গ্রাম আলীনগর), (২) পণ্ডিত মিয়া (পিতা কনা মিয়া, গ্রাম বাসুল্লা), (৩) সজল মিয়া (পিতা কদ্দুস মিয়া, গ্রাম কবিলাশপুর, ইউনিয়ন গাজীপুর, বাংলাদেশ)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃতরা সীমান্ত পেরিয়ে গরু চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছিল। চুরির সময় তারা ধরা পড়লে গ্রামবাসীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যার ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থায় ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিএসএফ ও চাম্পাহাওড় পুলিশের নজরদারির অভাবে বাংলাদেশী চোরচক্র সীমান্ত পেরিয়ে অনায়াসে প্রবেশ করছে। বিএসএফের মদতে খোয়াই সীমান্তকে নেশা ও মাদক পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। আর চাম্পাহাওড় থানার পুলিশ তাতে সমান ভাগিদারী চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে খোয়াই জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-কে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চলে আবারও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে জনমানসে।
