গোপাল সিং, খোয়াই, ০৪ জানুয়ারি || ‘বাংলাদেশে হিন্দুরা ‘বটা নহি, কটা যা রহা হে’। ভারতমাতার জন্য আমরা কি করতে পারি তা দেখানোর সময় এখনই। বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে। হিন্দু নিধন হচ্ছে। ভারতবর্ষে এমন বহু স্থান রয়েছে যেখানে হিন্দু কমছে, মুসলমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় সবচাইতে বেশী বাংলাদেশী মুসলমানরা রয়েছে। সীমান্ত ওপার বাংলাদেশ থেকে যে সকল মুসলমানরা ত্রিপুরায় রয়েছে, তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, দয়া করে বাংলাদেশ রওয়না হয়ে যান। প্রয়োজনে গাড়ী ভাড়াও দিয়ে দেওয়া হবে। যদি হিন্দুরা বাংলাদেশীদের তাড়ানো শুরু করে, তখন যেন বাংলাদেশ না পাঠিয়ে আবার পাকিস্তান না পাঠিয়ে দেয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ ইতিমধ্যে বাংলাদেশী মুসলমানদের তাড়ানো শুরু করে দিয়েছে। এভাবেই হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রবিবার সকালে খোয়াই বিমানবন্দর মাঠে আয়োজিত হল হিন্দু সম্মেলন থেকে বাংলাদেশী মুসলিম নাগরিকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন যোগী রোহতাশ নাথ।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মধ্যে প্রচুর বাংলাদেশী নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করছে। বিশেষ করে রামনগর এলাকাতেও ঘাটি গেড়ে বসে আছে। এছাড়া রাজ্যের কোথায় কোথায় বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছে, তাও জানা আছে বলে জানান যোগী রোহতাশ নাথ। কিন্তু মিডিয়াকে এখনই সব বলা যাবেনা বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন।
হিন্দু সম্মেলন ২০২৬, সনাতন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাকে সামনে রেখে ধর্মীয় আচার, নৃত্য, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল সনাতনী হিন্দু সমাজকে একত্রিত করা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করা। অনুষ্ঠানজুড়ে সনাতনের রীতিনীতি অনুসরণ করে বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগের সঞ্চার করে।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যোগী রোহতাশ নাথ, অসীমানন্দ মহারাজ, খোয়াইয়ের বিশিষ্ট সমাজসেবী বিনয় দেববর্মা, অভিজিৎ দত্ত ভৌমিক, দেবাশীষ নাথশর্মা সহ একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। এখানে উল্লেখ্য, সমাজসেবী তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একসময়ের খোয়াই জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিজিৎ দত্ত ভৌমিক এবং তাঁর সহযোগীদের দীর্ঘদিনের প্রয়াসের ফলস্বরূপ আজ প্রথমবারের মতো খোয়াইতে হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাড়ী বাড়ী প্রচার সহ খোয়াইয়ের বিভিন্ন প্রান্ত চষে বেড়ান অভিজিৎ দত্ত ভৌমিক এবং উনার সহযোগীরা।
এদিকে, সম্মেলনে ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্যে সমাজের মধ্যে ঐক্য, মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এদিন সম্মেলনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সনাতনী হিন্দুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকেই মাঠে ভিড় জমতে শুরু করে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। আয়োজকদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও সাংস্কৃতিক চেতনা আরও জোরদার হবে।
