গোপাল সিং, খোয়াই, ২৩ জানুয়ারি || রেলপথে অবৈধ সুপারি পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তর ত্রিপুরার চুরাইবাড়িতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ সুপারি আটকের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন ও সন্দেহ। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনাটি কার্যত একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন চুরাইবাড়ি থানার সাব-ইন্সপেক্টর প্রদীপ বর্মন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, করিমগঞ্জ থেকে আগরতলাগামী একটি ডেমো ট্রেনে করে নিলামবাজার এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সুপারি তেলিয়ামুড়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই সুপারির সঙ্গে কোনও বৈধ নথিপত্র ছিল না। এমন খবর পেয়ে চুরাইবাড়ি থানার পক্ষ থেকে তৎপরতা দেখানো হয় এবং ট্রেন থেকে দশ বস্তা সুপারি আটক করা হয়।
কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ, সাংবাদিকদের উপস্থিতির আগেই সুপারি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছিল। সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর সেই প্রচেষ্টা আপাতত থেমে যায়। পরে সুপারিগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানেও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির চাপে সুপারিগুলো সিজ করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসআই প্রদীপ বর্মন দাবি করেন, সুপারি সহ আটক দুই যুবককে আদালতে পাঠানো হবে এবং তারা সুপারির প্রকৃত মালিক নন, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতেই তাদের আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক ও রেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক চোখে পড়ে। আটক হওয়া দুই যুবক—শাজাহান আহমেদ ও মাছুম আহমেদ—নিজেরা প্রকাশ্যে দাবি করেন, সুপারির মালিক তারাই এবং সেগুলো নিয়ে তেলিয়ামুড়ার উদ্দেশ্যেই যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কয়েক দিনের মধ্যে সিজ করা সুপারি ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনার ফলে চুরাইবাড়ি থানার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। আরও অভিযোগ উঠছে, এর আগেও এই অফিসারের বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এসেছে এবং এক সময় গাঁজা পাচার সংক্রান্ত মামলায় নাম জড়ানোয় তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি এখনও চুরাইবাড়িতেই বহাল রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে চুরাইবাড়ি এলাকা অপরাধ ও অবৈধ পাচারের নিরাপদ করিডোরে পরিণত হতে পারে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই গুরুতর অভিযোগের পর জেলা পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আদৌ কি এই বিতর্কিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে? উত্তর খুঁজছে চুরাইবাড়ির মানুষ।
