গোপাল সিং, খোয়াই, ২৩ জানুয়ারি || ২৩শে জানুয়ারির সকালে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করল দেশবরেণ্য নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী। দিনের আলো গড়াতেই সেই স্মরণ পর্ব রূপ নিল বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনায়। জ্ঞান, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার মিলনক্ষেত্রে পরিণত হলো খোয়াইয়ের প্রতিটি স্কুল প্রাঙ্গণ।
সুসজ্জিত প্যান্ডেল, নান্দনিক সরস্বতী মূর্তি ও আকর্ষণীয় সেলফি পয়েন্ট—সব মিলিয়ে সরস্বতী পূজাকে ঘিরে স্কুলগুলোতে ছিল আধুনিক উৎসবের আবহ। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে শিল্পীসত্তা ও ভাবনার প্রকাশ। পাশাপাশি, কিছু স্কুলে এখনও চিরাচরিত প্রথা বজায় রেখে প্রকাশিত হয়েছে দেয়াল পত্রিকা, যা জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এই ধারাবাহিকতায় খোয়াইয়ের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জি নেক্সট মডেল স্কুল’-এ অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হলো দেয়াল পত্রিকা ‘জ্ঞানাঙ্কুর’। এই দেয়াল পত্রিকায় স্থান পেয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থীদের লেখা ছড়া ও আঁকা চিত্র, যা তাদের কল্পনা, চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করছে।
‘জ্ঞানাঙ্কুর’ দেয়াল পত্রিকার আবরণ উন্মোচন করেন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সভাপতি অঞ্জন গোস্বামী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপাল বিদ্যুৎ পাল, এডমিনিস্ট্রেটিভ ডাইরেক্টর রাজলক্ষী শর্মা, শিক্ষক সুদর্শন চক্রবর্তী, রাজীব আচার্য্য, অভিজিৎ গোপ সহ অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মীবৃন্দ।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে অঞ্জন গোস্বামী বলেন, সরস্বতী পূজা কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি জ্ঞানের দেবীর আরাধনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে তুলে ধরার এক বিশেষ সময়। সেই লক্ষ্যেই প্রতি বছর দেয়াল পত্রিকা ‘জ্ঞানাঙ্কুর’-এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিন প্রতিটি স্কুলে প্রসাদ বিতরণ করা হয় নির্দিষ্ট সময়ে এবং হাজারো ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভীড় ছিল লক্ষ্যনীয়।
সব মিলিয়ে, নেতাজী স্মরণ থেকে সরস্বতী পূজা—খোয়াইয়ের স্কুলগুলোতে এদিন জ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষার এক প্রাণবন্ত মিলনক্ষেত্র গড়ে ওঠে, যা শিক্ষার্থীদের মনে রেখে গেল অনুপ্রেরণার গভীর ছাপ।
