ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তকে নিয়ে শাসকের ভূমিকায় তীব্র বিতর্ক, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তিপ্রামথা বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৫ ফেব্রুয়ারি || রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন খোয়াই জেলার রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের তিপ্রামথা পার্টির বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। এক বিস্ফোরক অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে বিজেপি দলে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ওই ব্যক্তি মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন।
বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রসেনজিৎ দেববর্মা নামে এক ব্যক্তি, যিনি অতীতে আইপিএফটি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ২০০১ সালে খুমুলুঙে এক উপজাতি মহিলাকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হন। অভিযোগ ওঠার পর তিনি মিজোরামে গা ঢাকা দেন বলে দাবি করা হয়। এই ঘটনায় জিরানিয়া থানায় মামলা দায়ের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মামলার বিবরণ হিসেবে তিনি জানান, স্টেট অফ ত্রিপুরা বনাম প্রসেনজিৎ দেববর্মা মামলাটি এখনো বিচারাধীন। তার বিরুদ্ধে জিরানিয়া থানায় মামলা রয়েছে। ST টাইপ ১/৩২/২০২১, স্টেট অফ ত্রিপুরা বনাম প্রসেনজিৎ দেববর্মা, যার মামলা নম্বর হলো ৩৪/২ (জিরানিয়া থানায়)।
রঞ্জিত দেববর্মার অভিযোগ, পরে প্রসেনজিৎ দেববর্মা নিজেকে এনএলএফটি সদস্য দাবি করে ২০২৪ সালে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে বিধায়কের দাবি, আইন অনুযায়ী ধর্ষণ বা শিশু হত্যা সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যায় না।
রঞ্জিত দেববর্মার আরও অভিযোগ, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জনজাতিদের জমায়েতে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ধর্ষন মামলায় অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ দেববর্মাকে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করানো হয়। প্রসেনজিৎ দেববর্মাকে ত্রিপুরা রাজ্যের বিজেপি দলের রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, মন্ত্রী বিকাশ চাকমা এবং স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিজেপি দলে বরন করে নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই তিনি মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন বলে দাবি করেন বিধায়ক। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি কীভাবে সম্ভব, যখন তার বিরুদ্ধে মামলা এখনও বহাল রয়েছে। এই গোটা বিষয়টি বিধায়ক সামাজিক মাধ্যমেও তুলে ধরেছেন এবং সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চেয়েছেন বলে জানান।
এছাড়াও, রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বাইজালবাড়ীতে ৩রা ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি বিজেপি দলের কর্মসূচিতে ৭৮৫টি পরিবারের ২,৩১১ জন জনজাতি মানুষের বিজেপিতে যোগদানের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিকেও তিনি ভুয়ো বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সুতো বিলির নামে জনজাতি মানুষকপ একত্রিত করা হয় এবং তাদের হাতে বিজেপি দলের পতাকা তুলে দেওয়া হয়। গোটা অনুষ্ঠানে প্রকৃতপক্ষে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ জন, তাও এলাকার বাইরের লোকজন ওই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিল বলে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে।
এই অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*