তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত, অন্যান্য দল ছেড়ে তিপ্রা মোথায় যোগ দিলেন ৬৭ জন ভোটার

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৫ ফেব্রুয়ারী || উৎসাহ–উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক তাৎপর্যে ভরপুর পরিবেশে গন্ডাছড়া মহকুমার নারায়ণপুর রাইমা সাইমা কলা ক্ষেত্রে রাইমা ভ্যালিতে তিপ্রা মোথা দলের ৫ম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত হলো। এই উপলক্ষে আয়োজিত যোগদান সভায় বিজেপি ও কংগ্রেস ত্যাগ করে ২১টি পরিবারের মোট ৬৭ জন ভোটার তিপ্রা মোথা দলে যোগদান করেন। এই যোগদান সভার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল—যোগদানকারীদের একটি বড় অংশ অ-তিপ্রাসা সম্প্রদায়ের মানুষ। জানা গেছে, অ-তিপ্রাসা সম্প্রদায়ভুক্ত এই ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বঞ্চনা, ভূমি–অধিকার ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রশ্নে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। মহারাজা প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তিপ্রা মোথার “জাতি–ধর্ম নির্বিশেষে সকল ভূমিপুত্রের অধিকার” রক্ষার আহ্বানে সাড়া দিয়েই তারা দলবদলের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান নবাগত সদস্যরা। (TCF)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় অ-তিপ্রাসা সম্প্রদায়ের মানুষের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত সংখ্যক অ-তিপ্রাসা ভোটারের তিপ্রা মোথায় যোগদান প্রমাণ করে যে দলটি আর শুধুমাত্র একটি জাতিভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ক্রমশ একটি সর্বজনগ্রাহ্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাইমা ভ্যালির বিধায়িকা নন্দিতা দেববর্মা (রিয়াং) নবাগত সদস্যদের দলে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “তিপ্রা মোথা কোনও একক সম্প্রদায়ের দল নয়। তিপ্রাসা ও অ-তিপ্রাসা—উভয় সম্প্রদায়ের ভূমিপুত্রদের ন্যায্য অধিকার রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”জাতি–ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণেই এই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।” আজ অ-তিপ্রাসা সম্প্রদায়ের মানুষের এই যোগদান আমাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়াইটিএফ (YTF) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক খত্রজয় রিয়াং, YTF গন্ডাছড়া মহকুমা কমিটির সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, প্রাক্তন বিধায়ক তথা মহকুমা সভাপতি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি সারা জয় ত্রিপুরা, TCF সভাপতি জয় কুমার দাস এবং TCF নেতা বাদল সরকার। নেতৃত্বের বক্তব্যে জানানো হয়, জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল ভূমিপুত্রের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল হতেই অ-তিপ্রাসা সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ তিপ্রা মোথায় যোগ দিচ্ছেন। এই যোগদান রাইমা ভ্যালিতে তিপ্রা মোথার সাংগঠনিক ভিতকে আরও মজবুত করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গোটা অনুষ্ঠানস্থলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় পতাকা, স্লোগান ও বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে—রাইমা ভ্যালিতে তিপ্রা মোথা ক্রমশ একটি সর্বসমাজভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*