গন্ডাছড়ায় ‘অজগরের মাথা’ আকৃতির পাথর উদ্ধার, রাইমা–সাইমার লোককথা ঘিরে মন্দিরে ভিড়

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৭ ফেব্রুয়ারী || গন্ডাছড়া এলাকায় অজগরের মাথার আকৃতির একটি পাথর উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে ভগিরথ পাড়ায় ওই পাথরটিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে একটি ছোট মন্দির। প্রতিদিন সেখানে প্রার্থনা, ধূপ-ধুনো ও প্রদীপ জ্বালানোর আয়োজন করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানটি স্থানীয় বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, পাথরটির গঠন আশ্চর্যজনকভাবে অজগরের মাথার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাহাড়ি সমাজে বহুল প্রচলিত দুই বোন—রাইমা ও সাইমাকে কেন্দ্র করে লোককথা। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ঝুমচাষে গিয়ে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বিপাকে পড়ে রাইমা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—যে তাকে আশ্রয় দেবে তাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করবেন। পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তৈরি আশ্রয়ের পেছনে এক অজগরের উপস্থিতির কথা জানা যায়। পরিবারের আপত্তিতে অজগরের মৃত্যু হলে রাইমার শোক প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়—যা লোকগাঁথায় নদীর জন্মের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, উদ্ধার হওয়া পাথরটিকে সেই লোককথার প্রতীকী স্মারক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মন্দির নির্মাণে গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সামাজিক ঐক্যের পরিচয় বহন করছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন বহু মানুষ। অনেকে একে শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে সম্মান জানাচ্ছেন।
সংস্কৃতি বিশ্লেষকদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে গঠিত কোনো শিলাকে কেন্দ্র করে বিশ্বাসের উদ্ভব জনজাতি সমাজে অস্বাভাবিক নয়। পাথরটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে, তবে স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ঐতিহ্য, আবেগ ও লোককথার জীবন্ত প্রতীক।
ফলে গন্ডাছড়ার এই ঘটনা এখন কেবল একটি পাথর উদ্ধারের খবরেই সীমাবদ্ধ নয়—বরং এটি লোকস্মৃতি, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*