ভারত-বাংলা সীমান্তে দালাল চক্র জা়কিয়ে বসেছে, চেরমা থেকে সন্দেহভাজন এক দালাল সহ দুই ব্যক্তিকে আটক করল পুলিশ

গোপাল সিং, খোয়াই, ১০ মার্চ || খোয়াই জেলার চাম্পাহাওড় থানাধীন আশারামবাড়ি সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারের পাশাপাশি গবাদী পশু পাচারের ঘটনা অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাঝেমধ্যে পাচারচক্রের সদস্যরা ধরা পড়লেও এলাকায় এখনও সক্রিয় রয়েছে বড়সড় একটি পাচার চক্র। এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, পাচারকারীরা ধরা পড়ার পর অনেক সময় খোয়াই শহরের কিছু ব্যক্তি তাদের আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করার জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গবাদিপশু পাচার চক্রে সদ্য পুলিশের জালে উঠা দুই মাষ্টারমাইন্ডদের জেরার মুখে উঠে আসা আরও দুই দালালচক্রের মাষ্টারমাইন্ডদের নাম উঠে এসেছিল। অবশেষে খোয়াই জেলা পুলিশ সুপারের ‘স্পেশাল সিভিল টিম’, খোয়াই থানার এসআই বিশ্বকুমার দেববর্মা এবং সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির ওসি রঞ্জিত সরকারের নেতৃত্বে এই পাচার সংক্রান্ত সন্দেহে চেরমা থেকে এক দালাল সহ দু’জনকে গতকাল আটক করা হয়েছে। ধৃতরা হলো রুবেল চন্দ্র দাস (৩২), পিতা প্রয়াত গোপাল চন্দ্র দাস, বাড়ি শিলকুড়ি গ্রান্ট, কাছার জেলার শিলচর সদর থানার অন্তর্গত এলাকা এবং রাজেশ উরাং (৩৫), পিতা বাদল উরাং, বাড়ি তুলশীরামবাড়ি, চাম্পাহাওড়।
এই বিষয়ে কৃষ্ণধন সরকার, ওসি, খোয়াই থানা জানান, এর আগে গবাদি পশু পাচার চক্রের মাষ্টারমাইন্ডদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই একের পর এক অভিযান চালানো হচ্ছে। আজ আটক হওয়া দুই সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। মানব পাচার রোধে পুলিশের এই অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*