বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০৫ জুন || দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজারস্থিত দক্ষিণ জেলা হাসপাতালে জাতীয় গুণগত মান নির্ধারণ কর্মসূচি (NQAS), মুসকান (MusQan) এবং লক্ষ্য (LaQshya)-এর তিনদিনব্যাপী শারীরিক মূল্যায়ন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মূল্যায়নে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ, পরিষেবা ব্যবস্থা, রোগীসেবা, পরিকাঠামো এবং সামগ্রিক গুণগত মান জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী খতিয়ে দেখেন বহিরাগত মূল্যায়ক অঙ্কিতা নাথ, সুনীত শ্রীবাস্তব এবং রেণুকা শিন্ডে।
জেলা শাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজ্জাদ পি.-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জে. এম. দাস ও অতিরিক্ত মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ লুফাং মগের নেতৃত্বে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সিং কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
৩ জুন অনুষ্ঠিত সমাপনী বৈঠকে মূল্যায়ক দল হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা, রোগীসেবা এবং গুণগত মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিচালন ব্যবস্থা জাতীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
মূল্যায়ক দল বিশেষভাবে প্রশংসা করেন ডাঃ অজয় পাল, ডাঃ শান্তনু দাস, ডাঃ প্রসেনজিৎ দাস এবং ডাঃ পুষ্পল চৌধুরীর কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার। পাশাপাশি রোগীসেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কয়েকটি গঠনমূলক পরামর্শও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে জেলা শাসক মোহাম্মদ সাজ্জাদ পি. হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্সিং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বহিরাগত মূল্যায়কদের মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার জনগণকে আরও উন্নত, মানসম্পন্ন ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা হাসপাতালের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্য মহলের মতে, জাতীয় স্তরের এই মূল্যায়নের সফল সমাপ্তি দক্ষিণ জেলা হাসপাতালের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবার উৎকর্ষ সাধনে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
