ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ: তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেসের ভূমিপূজন ও লঙ্কামুড়া সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের সাথে মতবিনিময়

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৫ জুন || ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন ও সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। আজ ত্রিপুরা সফরে এসে তিনি একদিকে আগরতলার কুঞ্জবনে বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল ‘তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেস’-এর শিলান্যাস ও ভূমিপূজন করেন, অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের লঙ্কামুড়া বর্ডার আউটপোস্টে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ে অংশ নেন।
আগরতলার পুরাতন রাজভবন প্রাঙ্গণে ত্রিপুরার সমৃদ্ধ রাজকীয় ইতিহাসের প্রতীক আইকনিক ‘পুষ্পবন্ত প্যালেস’-কে একটি বিশ্বমানের হেরিটেজ হসপিটালিটি গন্তব্যে রূপান্তরিত করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টাটা গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ হসপিটালিটি কোম্পানি ‘ইন্ডিয়ান হোটেলস কোম্পানি লিমিটেড’-এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত হতে চলা এই বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এই ভূমিপূজন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা, তিপ্রামথা পার্টির সুপ্রিমো তথা রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ত্রিপুরার সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্য বিশ্বমঞ্চে এক নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করবে, যা রাজ্যকে ভারতের একটি অন্যতম প্রধান হেরিটেজ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক।
আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে লঙ্কামুড়া বর্ডার আউটপোস্টে এক বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষা ও লালন-পালনের অঙ্গীকার নিয়ে একটি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
পরিবেশ দিবসের কর্মসূচির পর লঙ্কামুড়া বর্ডার আউটপোস্টে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন থাকা বিএসএফ জওয়ানদের উদ্দেশ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেন অমিত শাহ। জওয়ানদের বীরত্ব ও ত্যাগের কুর্নিশ জানিয়ে তিনি বলেন, বিএসএফ জওয়ানরা সীমান্তে দিনরাত সজাগ ও সতর্ক পাহারা দেন বলেই আজ সারা দেশের মানুষ রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন।
সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও নিশ্ছিদ্র করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ বড় ঘোষণার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ইতিমধ্যে পাইলট প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। যেখানেই বিএসএফ জওয়ানরা দেশের সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, সেখানেই পর্যায়ক্রমে ‘স্মার্ট বর্ডার’ নির্মাণ করা হবে। সবাইকে সাথে নিয়ে সীমান্তকে সম্পূর্ণ আবদ্ধ ও সুরক্ষিত করে গড়ে তোলার বার্তা দেন তিনি।
ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারকে দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টিয়ার হিসেবে বর্ণনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ত্রিপুরার সীমান্তে ১১৯ কিলোমিটার নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। জওয়ানদের মনোবল বাড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের লক্ষ্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট—একটি ‘বিকশিত ভারত’ নির্মাণ করতে হলে সবার আগে আমাদের একটি ‘সুরক্ষিত ভারত’ নির্মাণ করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের পর গোটা রাজ্য জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন জোরদার হয়েছে, তেমনই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যেও এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*