সংবাদ ও মানবাধিকার কমিশনের চাপে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, উন্নত চিকিৎসার জন্য জিবিতে অসুস্থ কিশোর

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১০ জুন || আমাদের সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর এবং ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করায় অবশেষে সক্রিয় হয়েছে গণ্ডাছড়া মহকুমা ও ধলাই জেলা প্রশাসন। দীর্ঘ চার বছর ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকা এক নাবালক কিশোরকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, ধলাই জেলার গণ্ডাছড়া মহকুমার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের ওই কিশোরের বাম পায়ে কয়েক বছর আগে একটি ছোট গুটি দেখা দেয়। সময়মতো যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তা ধীরে ধীরে জটিল ক্ষতে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে তাকে বাড়িতেই থাকতে হয় এবং তার পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের আর্থিক অনটন ও প্রশাসনিক সহায়তার অভাবে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে।
বুধবার ‘নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা ডট কম’ সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। এর পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অসুস্থ কিশোরকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ পন্থ (জিবিপি) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে সচেতন মহলের একাংশের প্রশ্ন, সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ না হলে প্রশাসন আদৌ এত দ্রুত পদক্ষেপ নিত কি না। দীর্ঘ চার বছর ধরে একটি শিশুর এমন দুর্বিষহ জীবনযাপনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির দাবিও উঠেছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, কিশোরটির চিকিৎসার পাশাপাশি তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। রেশন কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্তি, আধার কার্ড হালনাগাদ, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড প্রদান এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে কিশোরটির চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এলাকার বাসিন্দারা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*