গোপল সিং, খোয়াই, ০৯ জুন || খোয়াই শহরে কিছুতেই থামছে না চোরের উপদ্রব। এবার খোয়াই শহরের ব্যস্ততম সুভাষ পার্ক বাজারে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা শহর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এক রাতেই বাজারের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দুই ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন রায় এবং গৌরাঙ্গ রায়ের দুটি বড় দোকানে হানা দিয়ে সর্বস্ব লুটে নিয়ে গেছে চোরের দল। খোয়াই শহরের বুকে এই জোড়া চুরির ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড়সড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ব্যবসায়িক কাজকর্ম শেষে দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন দুই ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন বাবু ও গৌরাঙ্গ বাবু। সেই সুযোগেই গভীর রাতে চোরের দল সুকৌশলে দোকান দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। দোকানে থাকা নগদ টাকাসহ প্রচুর মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে চম্পট দেয় তারা। সকাল হতেই এই চুরির ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে স্থানীয়দের। খবর পেয়েই নিজের দোকানে ছুটে আসেন দুই দোকান মালিক। চোখের সামনে সাধের দোকানের এই বিধ্বস্ত দশা এবং সর্বস্ব খোয়া যাওয়ার দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। এই চুরির ফলে ব্যবসায়িক দিক থেকে তাঁরা কার্যত পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, ব্যস্ততম বাজারে চুরির খবর পেয়েই খোয়াই থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা ক্ষতিগ্রস্ত দুই দোকান মালিকের সাথে বিস্তারিত কথা বলেন এবং চুরির ধরন খতিয়ে দেখেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে খোয়াই থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে চোরদের পাকড়াও করতে জোর তল্লাশি ও তদন্ত শুরু করেছে।
এই চুরির ঘটনার পর থেকে সুভাষ পার্ক বাজারসহ খোয়াই শহরের সাধারণ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের পারদ চড়ছে। শহরের খোদ প্রকাশ্য বাজারে যদি এভাবে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটতে থাকে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এই নিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সচেতন মহল। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্পষ্ট দাবি, খোয়াই শহরের সুভাষ পার্ক বাজারে নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে রাতের বেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলে এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। ব্যবসায়ীরা অতি দ্রুত এই চুরির ঘটনার কিনারা এবং বাজারে স্থায়ী সুরক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
