সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১০ জুন || রেগা (MGNREGA) প্রকল্পের কাজের স্থানে উপস্থিতির ছবি তুলতে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধের। মৃতের নাম শ্রী গজেন্দ্র রিয়াং (৮৫), পিতা স্বর্গীয় দুর্গাশ্বর রিয়াং। তিনি গন্ডাছড়া মহকুমার রানীপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মিত্র হাম পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেগা প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে ছবি তোলা বাধ্যতামূলক হওয়ায় বুধবার সকালে গজেন্দ্র রিয়াং কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, বৃদ্ধ গজেন্দ্র রিয়াংয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। বার্ধক্যজনিত শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে তাঁকে একাই কর্মস্থলে যেতে হয়েছিল। সাহায্যের জন্য পাশে কাউকে না পেয়েই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রেগা প্রকল্প দরিদ্র মানুষের জীবিকার অন্যতম ভরসা হলেও অতিবৃদ্ধ, অসুস্থ ও নিঃসঙ্গ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, ৮৫ বছর বয়সী একজন একাকী বৃদ্ধকে কর্মস্থলে উপস্থিতির ছবি তোলার জন্য দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে বাধ্য হওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? প্রবীণ ও অসহায় শ্রমিকদের জন্য কি বিশেষ ছাড় বা বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়?
স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রবীণ ও নিঃসঙ্গ শ্রমিকদের বিষয়ে বিশেষ সংবেদনশীলতা দেখিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহের পাশাপাশি রেগা প্রকল্পে প্রবীণ শ্রমিকদের জন্য মানবিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
