সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৯ জুন || ধলাই জেলার গণ্ডাছড়া মহকুমার এক প্রত্যন্ত জনজাতি অধ্যুষিত গ্রামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। প্রায় চার বছর আগে তার বাম পায়ের হাঁটুর উপরে একটি ছোট গুটি দেখা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তা জটিল আকার ধারণ করে। বর্তমানে সে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছে এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। কিশোরটির বাবা জুমচাষ ও দিনমজুরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। সন্তানের চিকিৎসার জন্য পরিবার বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়। এর ফলে কয়েক বছর আগে থেকেই তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারটি বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়েও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
সম্প্রতি বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন ঘটনাটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে জানা গেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলি পর্যালোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা মনে করছেন, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কিশোরটির সুস্থতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হবে। পাশাপাশি পরিবারটিকে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার দাবিও উঠেছে।
স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে এবং অসুস্থ কিশোরটির চিকিৎসার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
