এডিবি প্রজেক্টে উন্নয়নমুলক কাজ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ, ধীরগতি ও গুণগত মান নিয়ে জনগণের ক্ষোভের মুখে সাংবাদিক সম্মেলনে পিঠ বাঁচালেন তুডা কমিশনার, নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গোটা টিম

গোপল সিং, খোয়াই, ১১ জুন || এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি)-এর বিপুল অর্থানুকূল্যে খোয়াই পুর পরিষদ এলাকায় বর্তমানে এক মেগা পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। আধুনিক রাস্তা, রাস্তার পাশে পাকা ড্রেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের জলনিকাশী ব্যবস্থা, আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং সয়েস ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ত্রিপুরা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা ‘তুডা’-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই কাজ পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজের অত্যন্ত ধীরগতি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ জমা হচ্ছিল।
উন্নয়নমূলক কাজের শ্লথ গতি ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি শহরের যেখানে-সেখানে নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রেখে জনভোগান্তি তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে সংস্থার বিরুদ্ধে। এই ক্রমবর্ধমান জনক্ষোভের মাঝেই বৃহস্পতিবার খোয়াই পুর পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রেসমিটের শুরুতেই একপ্রকার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করলেন তুডা (TUDA)-এর কমিশনার মিহির কান্তি গোপ। তিনি যে অভিযোগ পেয়েই খোয়াই সফরে এসেছেন তা অকপটে স্বীকার করে নেন। এদিকে খোয়াই পুর পরিষদের যে এই কাজে কোনো দায় নেই তা বর্তমান চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথশর্মা ঘুরিয়ে মিডিয়ার সামনে বুঝিয়ে দেন। কারণ গোটা নির্মাণ কাজ হচ্ছে ‘তুডা’র তত্ত্বাবধানেই।তিনি সাংবাদিকদের সরাসরি সাফ জানিয়ে দেন, কাজের গুণগত মান বা এই সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্ন থাকলে সাংবাদিকরা যেন সরাসরি ত্রিপুরা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কমিশনার মিহির কান্তি গোপকে প্রশ্ন করেন।
চেয়ারপার্সনের এই প্রকাশ্য বিবৃতির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ‘তুড’র কমিশনার মিহির কান্তি গোপ নিজেই অকপটে স্বীকার করে নেন যে, খোয়াইতে প্রকল্পের কাজ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ধীরলয়ে চলছে। একই সাথে কাজের গুণগত মান নিয়ে যে জনসাধারণের তরফ থেকে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে, তাও তিনি মেনে নেন।
সাংবাদিক সম্মেলন শেষে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ত্রিপুরা আর্বাণ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কমিশনার মিহির কান্তি গোপ এবং খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথশর্মা সহ প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ টিম গোটা খোয়াই শহরাঞ্চল পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন।
এই পরিদর্শন চলাকালীন সুভাষপার্ক বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রশাসনিক দলকে কাছে পেয়ে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণের ফলে সৃষ্ট তাঁদের একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সেখানেও চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথশর্মা ব্যবসায়ীদের সাথে মুখোমুখি কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সঠিক আইনি ও প্রশাসনিক পদ্ধতি মেনেই রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হবে। একই সাথে ড্রেন তৈরি করতে গিয়ে সরকারি খাস জমি এবং দোকানদারদের নিজস্ব জায়গার সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের সামনে আইনি স্পষ্টীকরণ তুলে ধরেন।
এদিকে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তুডা কমিশনার মিহির কান্তি গোপ খোয়াইবাসীকে আশ্বস্ত করে বড় ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এখন থেকে নিয়মিতভাবে এই নির্মাণ কাজ প্রশাসনের উচ্চস্তরের আধিকারিকদের দিয়ে কঠোর তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। পাশাপাশি ঠিকাদার সংস্থাকে কাজের সাইটে শ্রমিক সংখ্যা অবিলম্বে বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে খোয়াই পুর এলাকার সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ গুণগত মান বজায় রেখে শেষ করা হবে। এখন দেখার, তুডা কমিশনারের এই তিন মাসের সময়সীমার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়, নাকি খোয়াইবাসীকে আরও দীর্ঘসময় এই ভোগান্তি পোহাতে হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*