আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ জুন || বাঙালী মহিলা সমাজের উদ্যোগে রবিবার আগরতলার রাজ্য অফিসের হলঘরে এক দিবসীয় রাজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই শতাধিক মহিলা প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। মঙ্গলদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
সম্মেলনে সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মিলন পাল দত্ত। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সচিব শ্রীমতি কানন দাস। পরে তিনি সংগঠনের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্যে রাজ্য ও দেশজুড়ে নারীদের ওপর ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ, নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, আইনসভায় নারীদের ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ এবং সমাজের সর্বস্তরে নারীদের মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নারীদের প্রতি চলে আসা শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্য দূর করতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “নারী ও পুরুষ সমাজের দুটি ডানা। একটি পিছিয়ে থাকলে সমাজের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।” তাই সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি জোর দেন।
সম্মেলন শেষে বাঙালী মহিলা সমাজের পক্ষ থেকে আগরতলার রাজপথে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে সংগঠনের উত্থাপিত ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
বাঙালী মহিলা সমাজের ৯ দফা দাবি
১. নার্সারি থেকে প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাদানের দায়িত্ব মহিলাদের হাতে অর্পণ।
২. কর্মসংস্থানসহ বিধানসভা ও লোকসভায় মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ।
৩. নারীদের দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিশেষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ।
৪. নারী ধর্ষণ, খুনসহ গুরুতর অপরাধে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান।
৫. প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য জুডো ও ক্যারাটে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
৬. টিভি, ইউটিউব, সিনেমাসহ বিনোদনমাধ্যমে অশ্লীল কনটেন্ট প্রচার বন্ধ।
৭. গাঁজা, মদসহ সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্যের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ।
৮. প্রাউট তত্ত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র, নীতিবাদী নেতৃত্ব ও প্রগতিশীল সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
৯. ত্রিপুরা ও ভারতের বুকে নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।
সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, নারীর নিরাপত্তা, সমঅধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজে নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
