আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ জুন || পশ্চিম জেলার ওল্ড আগরতলা ব্লকের নোয়াগাঁও হাই স্কুলে গত ২৫ জুন বিদ্যালয় পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষা আধিকারিকের সঙ্গে কথিত অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনিক ও শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গেজেটেড অফিসার্স সংঘ (GOS), ত্রিপুরা প্রদেশ এক বিবৃতিতে পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমারের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
GOS-এর সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ রায় স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নোয়াগাঁও হাই স্কুল পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয় পরিদর্শক (Inspector of Schools) সুপ্রিয়া দাসের সঙ্গে বহু আধিকারিকের উপস্থিতিতে এমন আচরণ করা হয়, যাতে তিনি নিজেকে অপমানিত ও মানসিকভাবে মর্মাহত বলে অনুভব করেন। সংঘের দাবি, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলাশাসক প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী যেতে পারেন। তবে পরিদর্শনের সময় বিপুল সংখ্যক প্রশাসনিক আধিকারিক ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করায় ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে এবং ভয় ও মানসিক চাপে কিছু শিক্ষার্থী জেলাশাসকের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
GOS-এর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র DDO হিসেবে প্রধান শিক্ষিকা দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় পরিদর্শক সুপ্রিয়া দাসকে সকলের সামনে অপমান করা হয়েছে, যা শিক্ষাঙ্গনের জন্য একটি অনভিপ্রেত ঘটনা।
সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, সুপ্রিয়া দাস একজন দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ শিক্ষা আধিকারিক। NIPUN Tripura প্রকল্পে তার সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আগরতলার রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহার হাত থেকে “Best Performing Inspector of Schools” সম্মানে ভূষিত হন। GOS-এর মতে, এই সম্মান তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও দক্ষতার স্বীকৃতি বহন করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে একজন মহিলা শিক্ষা আধিকারিকের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
এদিকে, গত রবিবার গেজেটেড অফিসার্স সংঘের অন্তর্গত School Educational Officers Unit (SEOU)-এর একটি প্রতিনিধি দল সুপ্রিয়া দাসের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দল ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তাঁর প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করে। পাশাপাশি GOS-এর পক্ষ থেকে তাঁকে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়।
সংগঠনের মতে, গত এক দশক ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গঠনে সুপ্রিয়া দাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় তিনি তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
গেজেটেড অফিসার্স সংঘের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ রায় বলেন, এই ধরনের ঘটনা সরকারি কর্মচারীদের মর্যাদা ও কর্মপরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং সরকারি কর্মচারীরা সম্মানজনক পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
