দক্ষিণ ত্রিপুরায় পরিবেশ সচেতনতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, অংশ নিলেন ২৫০ শিক্ষার্থী-শিক্ষক

আপডেট প্রতিনিধি, সাব্রুম, ০৪ জুলাই || পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করে তুলতে দক্ষিণ ত্রিপুরার ভূরতলী আবাসিক বিদ্যালয়ে শনিবার পরিবেশ সচেতনতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। যুব বিকাশ কেন্দ্র (YVK) ও বিশ্ব যুবক কেন্দ্র (VYK), নয়াদিল্লির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নবেন্দু চক্রবর্তী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই জীবনধারা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে তোলা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
পরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুব বিকাশ কেন্দ্রের সভাপতি দেবাশীষ মজুমদার। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণের বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
যুব বিকাশ কেন্দ্রের সহ-সভাপতি অনুপম দেবনাথ বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং রোপিত চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাই একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার মূল ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ত্রিপুরা সরকারের বন বিভাগের বনাধিকারিক শ্রীকান্ত দাস শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বন ও বৃক্ষের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সচেতনতামূলক আলোচনা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে যৌথভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সবাই রোপিত চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অঙ্গীকার করেন এবং একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। ভবিষ্যতেও ত্রিপুরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটে। পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মের দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*