মিথ্যা ধর্ষন মামলায় খালাস পেয়েই থানায় মেহেদী: ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগে রশিদ ও সুমনের বিরুদ্ধে পাল্টা এফআইআর

গোপল সিং, খোয়াই, ০৮ জুলাই || একটি পকসো আইনের ৪ নং ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর ১৩৭(২)/৬৪(১) ধারার মামলায় আদালত থেকে সসম্মানে বেকসুর খালাস পাওয়ার পর, এবার পাল্টা জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেলিং এবং ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে সরব হলেন উদয়পুরের উচ্চশিক্ষিত যুবক মেহেদী হোসেন। গত ২৯ জুন, ২০২৬ তারিখে গোমতী জেলার উদয়পুর জেলা ও দায়রা আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর, মঙ্গলবার আর. কে. পুর থানায় দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মেহেদী। অভিযুক্তরা হলো—বাগমা বাড়ভঁইয়া এলাকার রশিদ মিয়া এবং বাগমা নালিয়ামুড়া এলাকার সুমন ঘোষ।
মেহেদী হোসেনের দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে একটি পরিকল্পিত পকসো মামলাকে কেন্দ্র করে রশিদ মিয়া ও তার সহযোগী সুমন ঘোষ মেহেদীকে দীর্ঘ দিন ধরে ২০ বছরের কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে আসছিল। মামলা তুলে নেওয়া ও সামাজিক মীমাংসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা মেহেদীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। ধার-দেনা করে সেই টাকা অভিযুক্তদের হাতে তুলে দিলেও তারা প্রতিশ্রুতি তো রাখেইনি, উল্টো চাপ সৃষ্টি করে একটি এফিডেভিটে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং মুখ খুললে আরও একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২৯ জুন, ২০২৬ তারিখে বিশেষ আদালতের বিচারক রবি দাহিয়া তাঁর রায়ে স্পষ্ট জানান, অভিযুক্ত মেহেদী হোসেনের বিরুদ্ধে BNS-এর ১৩৭(২)/৬৪(১) এবং পকসো অ্যাক্টের ৪ নং ধারায় আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাকে সসম্মানে খালাস দেওয়া হলো। মামলার নথিসূত্রে আরও জানা যায়, খোদ রশিদের মেয়ে (কথিত ভুক্তভোগী) আদালতে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছে যে তার বাবা তাকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়েছেন এবং সে মেহেদীকে চেনেই না। এমনকি মেডিকেল রিপোর্ট ও পুলিশের চার্জশিটেও ঘটনার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর মেহেদী হোসেন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর প্রতারণা, চাঁদাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক ধারায় রশিদ ও সুমনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন।
এদিকে রায়ের পর নিজের জালিয়াতি ঢাকতে রশিদ মিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন যে, মেহেদীর আইনজীবী নাকি তার মেয়েকে ধমক দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছেন। এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘পাগলের প্রলাপ’ ও হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে অভিযোগকারী পক্ষ। তাঁদের প্রশ্ন—বিচারপতির সামনে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে এমন ঘটনা কীভাবে সম্ভব? যদি সত্যিই তেমন কিছু হতো, তবে রশিদ কেন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন না?
আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের রায় আসার পর নিজের অপরাধ ঢাকতে উকিলের নামে এমন মানহানিকর ও বানোয়াট মন্তব্য করার অপরাধে রশিদ মিয়ার বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই আদালতে একটি পৃথক ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করা হবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*