আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৭ জুলাই || বিদ্যুৎ পরিষেবার মানোন্নয়ন, প্রিপেইড স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার আগরতলার বিদ্যুৎ ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ত্রিপুরা বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতি। পরে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল টিএসইসিএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কাছে ছয় দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জমা দেয়।
বিক্ষোভ সভায় সংগঠনের আহ্বায়ক সঞ্জয় চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাজ্যে টিএসইসিএল-এর বিদ্যুৎ পরিষেবার মান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। গ্রাহকদের মতামত উপেক্ষা করে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বারবার সার্ভার ডাউন থাকায় বহু গ্রাহক সময়মতো রিচার্জ করতে না পেরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রিপেইড স্মার্ট মিটারে রিচার্জ অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়া, পোস্টপেইড স্মার্ট মিটারে অস্বাভাবিক বিল, সময়মতো বিল পরিশোধ করেও রিবেট না পাওয়া, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজের মতো সমস্যায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনের অভিযোগ, আগাম কোনও ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুতের মাশুল, ফিক্সড চার্জ, ফুয়েল চার্জ ও ডিউটি চার্জ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সমস্ত বিদ্যুৎ গ্রাহককে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনের নেতৃত্ব।
ত্রিপুরা বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— প্রিপেইড স্মার্ট মিটারকে পোস্টপেইডে রূপান্তর এবং নতুন করে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করা, লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ সমস্যা দূর করে পরিষেবার মান উন্নত করা, প্রতিটি সাব-ডিভিশনে অভিযোগ কেন্দ্র পুনরায় চালু ও পর্যাপ্ত লাইনম্যান নিয়োগ, বর্ধিত মাশুল ও অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার, সার্ভার ডাউনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পরিবহণজনিত ক্ষতি, বকেয়া বিল, বিদ্যুৎ চুরি ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয়ের বোঝা গ্রাহকদের ওপর না চাপানোর দাবি।
সংগঠনের দাবি, সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে এই দাবিগুলি কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিতও দেন সংগঠনের নেতারা।
