বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ২২ জুলাই || দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার ঐতিহ্যবাহী দ্বৈত্যশ্বরী কালী মন্দিরের জলাশয়ে সোমবার একটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ অবমুক্ত করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় পুণ্যার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, সোমবার দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ মন্দিরের পুরোহিত ধর্মীয় রীতি মেনে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে কচ্ছপটিকে বরণ করেন। এরপর মন্দিরের সুবৃহৎ ও নিরাপদ জলাশয়ে সেটিকে অবমুক্ত করা হয়।
কচ্ছপটি উদ্ধার করেন সাব্রুমের কলাছড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা ও পরিবেশ-সচেতন নাগরিক কনক ঘোষ। তিনি কালাপানিয়া ছড়া এলাকা থেকে কচ্ছপটিকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। চোরাশিকারি বা বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের হাত থেকে প্রাণীটিকে রক্ষা করতেই তিনি সেটিকে দ্বৈত্যশ্বরী কালী মন্দিরের জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে কনক ঘোষ বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপ। এই ধরনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে আরও সচেতন হতে হবে।”
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে কনক ঘোষের এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা জানান, দ্বৈত্যশ্বরী কালী মন্দিরের জলাশয় দীর্ঘদিন ধরেই কচ্ছপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। নতুন এই কচ্ছপটির সংযোজনে জলাশয়টি আরও সমৃদ্ধ হলো বলে তাঁদের অভিমত।
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
