গোপল সিং, খোয়াই, ২৯ জুলাই || সাব্রুম থানার অন্তর্গত সাতচাঁদ আরডি ব্লকের অধীনে পশ্চিম হরিণা গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান তথা বিজেপি নেত্রী শিখা দাসের বাড়ির পুকুরে বিষ ঢেলে সমস্ত মাছ মেরে ফেলেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কোনো এক সময়ে দুষ্কৃতীরা এসে প্রধানের বাড়ির পুকুরে বিষ ঢেলে দিয়ে চলে যায়।
বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখেন, পুকুরের সমস্ত মাছ মরে ভেসে রয়েছে এবং কিছু মাছ পাড়ে পড়ে আছে। এই দৃশ্য দেখে পরিবারের লোকজন হতভম্ব হয়ে পড়েন। সকাল সকাল এই খবর রাষ্ট্র হতেই মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসীরা প্রধানের বাড়িতে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় সাব্রুম থানায়। খবর পেয়ে সাব্রুম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সরজমিনে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রাম প্রধান শিখা দাসের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটায় কে বা কারা বিষ ঢেলেছে তা পরিবারের কেউ দেখতে পাননি। তবে এই ঘটনায় তাদের প্রায় পাঁচ কুইন্টাল মাছ মারা গেছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য দেড় লক্ষ টাকারও বেশি। পুলিশ এই বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার তদন্তে নেমেছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাব্রুমের সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনেকেই বলছেন—সাব্রুমে এসব কী চলছে! কারণ, গত সোমবারই দমদমার এক হতদরিদ্র বাসিন্দা লক্ষণ দাসের রাবার বাগান কেটে ধ্বংস করে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা, যা তিনি ঋণ নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন। আর তার ঠিক পরদিনই গভীর রাতে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ মেরে ফেলার ঘটনা ঘটলো। সাব্রুমের সচেতন মহলের দাবি, পুলিশ যেন অবিলম্বে এই সমস্ত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে, অন্যথায় সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি করার মানসিকতা এই সমাজবিরোধীদের আরও বেড়ে যাবে।
